দুই ধাপে চুক্তি কার্যকর করার উদ্যোগ, চলতি মাসেই ভূমির অধিকার প্রদানের প্রক্রিয়া শুরুর ইঙ্গিত
নয়াদিল্লি/আগরতলা, ৪ সেপ্টেম্বর: ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়ন এবং জনজাতিদের দীর্ঘদিনের ভূমির অধিকার সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলা এই বৈঠকে চুক্তির বিভিন্ন বিষয় এবং তার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা, তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন-সহ অন্যান্যরা। বৈঠকে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক সূত্রের খবর, দুই ধাপে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একইসঙ্গে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ভূমির অধিকার প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়েও ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আইন ও বিধান অনুযায়ী ভূমির অধিকার প্রদানের বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হবে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভূমির অধিকার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ভারত সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
এদিনের বৈঠকে জাতি-জনজাতির মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সামাজিক শান্তি অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, দিল্লির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর ত্রিপুরার রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিজেপি ও তিপ্রা মথার মধ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে দুই দলের মধ্যে জোটের সম্ভাবনাও আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
তবে জোট নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়ায় বিষয়টি আপাতত রাজনৈতিক জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক নিয়ে ত্রিপুরায় ফিরে আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা বিস্তারিত বক্তব্য রাখতে পারেন বলে জানা গেছে।
সূত্রনির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। চুক্তি ও ভূমির অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারি ঘোষণার পরই নিশ্চিত হবে।