আগরতলা, ২৭ আগস্ট: বিদ্যুৎ বিলের অতিরিক্ত চার্জ, সারচার্জ, প্রি-পেইড মিটার ও বিদ্যুৎ নিগমের আর্থিক পরিচালনা নিয়ে বিধানসভায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বাম বিধায়ক শ্যামল দাস। সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা চাপানোর পরিবর্তে এই ধরনের চার্জ বাতিল করার দাবি জানান তিনি।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্যামল দাস বলেন, সরকার ভর্তুকি দেওয়ার কথা বললেও সেই অর্থের উৎসও সাধারণ মানুষের করের টাকা। ফলে ভর্তুকির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে জনগণের কাছ থেকেই অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অতিরিক্ত চার্জ আদায়ের পরিবর্তে বিদ্যুৎ নিগমের আর্থিক ব্যবস্থাপনার দিকেই নজর দেওয়া প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ নিগমের পরিকাঠামো ও আর্থিক ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বিদ্যুতের খুঁটি, ভবনসহ বিভিন্ন পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণে সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ ব্যয় করা হয়। এমনকি বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের তহবিল থেকেও অর্থ দেওয়া হয়। এরপরও নিগমের প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকা ঘাটতি কীভাবে তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সময় নিগমের প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট ছিল।
বিদ্যুৎ কেনাবেচার হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বাম বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, NEEPCO ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রতি ইউনিট প্রায় ৪.৭০ থেকে ৫.২০ টাকা দরে বিদ্যুৎ কেনার পর গড়ে প্রায় ৭.৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এরপরও সার্ভিস চার্জ, মিটার চার্জ ও ফুয়েল চার্জের মতো অতিরিক্ত খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
একইসঙ্গে রাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পরিষেবার মান নিয়েও সরব হন শ্যামল দাস। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন কমেছে। পাশাপাশি ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও পর্যাপ্ত কর্মী ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
প্রি-পেইড মিটার ও বিলিং ব্যবস্থার গলদ নিয়েও বিধানসভায় অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, রিচার্জের পরও অনেক গ্রাহক সমস্যায় পড়ছেন এবং অভিযোগ জানাতে বিদ্যুৎ নিগমের দফতরে গিয়েও যথাযথ সমাধান পাচ্ছেন না।
শেষে শ্যামল দাস দাবি করেন, সরকারি কোষাগার থেকে ভর্তুকি দেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যুৎ নিগমের আর্থিক ব্যবস্থাপনা পুনর্বিবেচনা করে অতিরিক্ত অর্থের বোঝা কমাতে হবে। সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চার্জ অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্যও সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।