Home আগরতলাবিদ্যুৎ বিল ও স্মার্ট মিটার নিয়ে বিধানসভায় সরব সুদীপ রায় বর্মন, অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহারের দাবি

বিদ্যুৎ বিল ও স্মার্ট মিটার নিয়ে বিধানসভায় সরব সুদীপ রায় বর্মন, অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহারের দাবি

by Debasish
0 comments 24 views

আগরতলা, ২৭ আগস্ট: রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবা, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল, স্মার্ট মিটার এবং বিভিন্ন অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে বিধানসভায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। সাধারণ গ্রাহকদের ওপর একের পর এক অতিরিক্ত চার্জ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুদীপ রায় বর্মন বিদ্যুতের ফিক্সড চার্জ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, আগে যেখানে কিলোওয়াট প্রতি নির্দিষ্ট হারে ফিক্সড চার্জ নেওয়া হতো, তা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। গ্রাহকের প্রকৃত ‘ম্যাক্সিমাম ডিমান্ড’-এর পরিবর্তে ‘কানেক্টেড লোড’-এর ভিত্তিতে কেন অতিরিক্ত ফিক্সড চার্জ নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এছাড়া প্রতি ইউনিটে FPPCA চার্জ এবং বিদ্যুৎ ডিউটির নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের অতিরিক্ত চার্জের ফলে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে মিটার রেন্ট আদায় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মিটারের মূল্য গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় হয়ে যাওয়ার পরও বছরের পর বছর মিটার ভাড়া নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করেন সুদীপ রায় বর্মন।

বিধায়ক সোলার বিদ্যুৎ ও ট্যারিফের অসামঞ্জস্যের বিষয়টিও বিধানসভায় তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা বিদ্যুৎ নিগমের কাছে নির্দিষ্ট হারে বিক্রি করছেন। কিন্তু রাতের সময় বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁদের কাছ থেকে তুলনামূলক অনেক বেশি হারে বিল নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ‘সিলিং’ বেঁধে দেওয়া নিয়েও আপত্তি জানান তিনি।

বিদ্যুৎ চুরি ও ট্রান্সমিশন লসের বোঝা বৈধ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সুদীপ রায় বর্মন। তাঁর প্রশ্ন, বিদ্যুৎ চুরি, সিস্টেম লস ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় কেন নিয়মিত বিল পরিশোধ করা গ্রাহকদের বহন করতে হবে?

স্মার্ট মিটার প্রসঙ্গেও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, সংসদে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক নয়। তা সত্ত্বেও রাজ্যে স্মার্ট মিটার বসানোর উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া আন্ডারগ্রাউন্ড কেবলিং ও স্মার্ট সিটি প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে বারবার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, পাশাপাশি আউটসোর্স কর্মীদের নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিধায়ক।

বক্তব্যের শেষে সুদীপ রায় বর্মন FPPCA/ফিউয়েল চার্জ, ডিউটি চার্জ, মিটার রেন্ট এবং অন্যায্য ফিক্সড চার্জ প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ বিলে স্বস্তি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানান।

You may also like

Leave a Comment