Home ত্রিপুরা‘শিক্ষক সঙ্কট ও ড্রপআউট উদ্বেগজনক, দ্রুত শূন্যপদ পূরণ করা হোক’: বিধানসভায় জিতেন্দ্র চৌধুরী

‘শিক্ষক সঙ্কট ও ড্রপআউট উদ্বেগজনক, দ্রুত শূন্যপদ পূরণ করা হোক’: বিধানসভায় জিতেন্দ্র চৌধুরী

by Debasish
0 comments 26 views

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ আগস্ট: রাজ্যের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক সঙ্কট, বিদ্যালয়ে পরিকাঠামোর ঘাটতি এবং শিক্ষার্থীদের ড্রপআউট নিয়ে বিধানসভায় সরব হলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। সরকারি পরিসংখ্যান ও শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন রিপোর্টের উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর শূন্যপদ পূরণ না হওয়ায় রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।

বিরোধী দলনেতার দাবি, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তর মিলিয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর সংখ্যা ছিল ৪৮,৩৬৪ জন। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৫,৪০৩ জনে। অর্থাৎ আট বছরে প্রায় ২২,৯৬১ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।

শিক্ষার্থীদের ড্রপআউট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। ইউডাইস প্লাসের ২০২৩-২৪ সালের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ড্রপআউটের হার ১.৮ শতাংশ, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে ৮.১ শতাংশ, নবম-দশম শ্রেণিতে ৮.৯ শতাংশ এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে ১২.১ শতাংশ। তাঁর দাবি, ২০১৮-১৯ সালে রাজ্যের স্কুলগুলিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫,৭১,৮৬৮ থাকলেও ২০২৩-২৪ সালে তা কমে ৫,০৮,০৩৬ হয়েছে।

এডিসি এলাকার স্কুলগুলির শিক্ষক সঙ্কটের বিষয়টিও বিধানসভায় তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, ৩৭২টি এডিসি এলাকার স্কুল মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে। এডিসি ও নন-এডিসি মিলিয়ে ৪০০-র বেশি স্কুলে মাত্র দু’জন শিক্ষক রয়েছেন। পাশাপাশি বহু স্কুলে বিদ্যুৎ, পানীয় জল, পৃথক শৌচাগার, কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও লাইব্রেরির মতো মৌলিক পরিকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। টেট ও এসটিজিটি-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সর্বশিক্ষা ও সমগ্র শিক্ষা অভিযানের অধীনে কর্মরত শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর দাবি, প্রায় চার হাজার শিক্ষক চাকরির অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিষেবা দেওয়া এই শিক্ষকদের সুরক্ষা এবং স্থায়ী পদ পূরণের বিষয়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও স্থায়ী শিক্ষকের অভাব এবং ফি বৃদ্ধির বিষয়টি বিধানসভায় তুলে ধরে তিনি বলেন, কলেজগুলিতে পার্ট-টাইম ও গেস্ট লেকচারারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা শিক্ষার মানকে প্রভাবিত করছে। সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সরকারকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, শিক্ষক নিয়োগ ও শূন্যপদ পূরণে দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধ করে অবিলম্বে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে শিক্ষক, পরিকাঠামো এবং শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার ক্ষেত্রে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

You may also like

Leave a Comment