নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ আগস্ট: স্মার্টসিটি প্রকল্পের আওতায় রাজধানী আগরতলায় উন্নয়নমূলক কাজ চললেও তা সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়াই হচ্ছে বলে বিধানসভায় অভিযোগ তুললেন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। তাঁর দাবি, এক দপ্তর রাস্তা খুঁড়ে কাজ শেষ করার পর অন্য দপ্তরের কাজের জন্য ফের সেই রাস্তা খোঁড়া হচ্ছে। এর ফলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবলিংয়ের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, স্মার্টসিটি প্রকল্পের সময়ই শহরের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা করা হয়নি। টিএসইসিএলের কাজের যথাযথ তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সুদীপ রায় বর্মন জানান, আগরতলা শহরে আন্ডারগ্রাউন্ড এলটি কেবলিংয়ের জন্য সম্প্রতি প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, স্মার্টসিটি প্রকল্পের সময় এই কাজ একসঙ্গে করা হলো না কেন? এখন রাস্তা তৈরি ও মেরামতের পর ফের কেবল বসানোর জন্য রাস্তা খুঁড়তে হলে তার দায় কে নেবে?
তিনি বলেন, দুর্গাপূজার আগে শহরের বিভিন্ন রাস্তার প্যাচওয়ার্ক ও সংস্কারের কাজ চলছে। কিন্তু এরপরই যদি নতুন করে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে। তাঁর মতে, এভাবে উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করলে তা ‘ভাঙা-গড়ার খেলায়’ পরিণত হয়।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় ডিভাইডার ভাঙা এবং রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও বিধানসভায় তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আগরতলা শহরের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। কোন এলাকায় কী ধরনের পরিকাঠামো প্রয়োজন, তা আগে থেকে নির্ধারণ করে বিভিন্ন দপ্তরের কাজের মধ্যে সমন্বয় করা জরুরি।
বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির প্রসঙ্গও বিধানসভায় উত্থাপন করেন সুদীপ রায় বর্মন। তাঁর বক্তব্য, পরিকাঠামোগত পরিকল্পনার ঘাটতি ও বিভিন্ন প্রকল্পের বাড়তি খরচের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর গিয়ে পড়ছে।
বিধায়ক দাবি করেন, আগরতলা শহরের উন্নয়নকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনতে হবে। বিভিন্ন দপ্তরের কাজের মধ্যে সমন্বয় করে রাস্তা, বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ, কেবলিংসহ সমস্ত পরিকাঠামোগত কাজ নির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।