Home আগরতলাত্রিপুরায় নতুন পদোন্নতি নীতি ২০২৬ ঘোষণা, এককালীন অ্যাডহক পদোন্নতির পথ খুলল রাজ্য সরকার

ত্রিপুরায় নতুন পদোন্নতি নীতি ২০২৬ ঘোষণা, এককালীন অ্যাডহক পদোন্নতির পথ খুলল রাজ্য সরকার

by Debasish
0 comments 3 views

সুপ্রিম কোর্টে সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকলেও প্রশাসনিক কাজ সচল রাখতে বিশেষ উদ্যোগ, অস্থায়ী পদোন্নতিতে তৈরি করা যাবে সুপারনিউমেরারি পদ

আগরতলা, ২ নভেম্বর: সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জট কাটাতে নতুন পদোন্নতি নীতি ২০২৬ চালু করল ত্রিপুরা সরকার। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে থাকা পদ পূরণ এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম স্বাভাবিক রাখতে এককালীন বিশেষ ব্যবস্থায় অ্যাডহক পদোন্নতির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে পদোন্নতিতে সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকায় নিয়মিত পদোন্নতি প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটাতেই রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।

২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে সাধারণ প্রশাসন (পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং) দপ্তরের পক্ষ থেকে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নতুন এই নীতি কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। ত্রিপুরা তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি সংরক্ষণ আইন, ১৯৯১ এবং সংরক্ষণ বিধি, ১৯৯২-এর ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিশেষ করে আইনের ৪(২) ধারা এবং বিধির ৯ নম্বর নিয়মকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর জেরে নিয়মিত পদোন্নতি আটকে থাকায় উচ্চপদে শূন্যপদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার।

নতুন নীতি অনুযায়ী, প্রতিটি ক্যাডার বা পদবিন্যাসের ভিত্তিতে সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। যেসব ক্যাডারে চারটি বা তার বেশি পদ রয়েছে, সেখানে ১০০ পয়েন্ট রোস্টার অনুসরণ করা হবে। অন্যদিকে তিনটি বা তার কম পদ থাকা ক্যাডারের ক্ষেত্রে তিন পয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট রোস্টার কার্যকর হবে। তবে ছোট ক্যাডার বা একক পদের ক্যাডারগুলিকে একত্রিত করে রোস্টারের জন্য পদের সংখ্যা বাড়ানো যাবে না।

পদোন্নতির জন্য যোগ্য কর্মচারীদের চিহ্নিত করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন কমিটি (ডিপিসি)। সর্বশেষ প্রাপ্ত জ্যেষ্ঠতার তালিকা এবং প্রযোজ্য নিয়োগবিধি অনুসারে যোগ্যতা যাচাই করা হবে। এরপর সম্মিলিত মেধাভিত্তিক তালিকা তৈরি করা হবে। সংরক্ষিত শ্রেণির যেসব কর্মচারী মেধা অথবা জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সাধারণ শ্রেণির পদোন্নতির যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তাঁদের অসংরক্ষিত শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে সংরক্ষিত পদগুলি যোগ্য সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থীদের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

নতুন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত বা সুপারনিউমেরারি পদ সৃষ্টি করার সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় কোনও যোগ্য কর্মচারী যাতে বাদ না পড়েন, সেই উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলি অতিরিক্ত পদের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে অর্থ দপ্তরকে জানাবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত এই বিশেষ ব্যবস্থার অধীনে পদ সৃষ্টির জন্য নতুন করে অর্থ দপ্তরের সম্মতির প্রয়োজন হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

তবে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই পদোন্নতি সম্পূর্ণ অস্থায়ী, সাময়িক এবং শর্তসাপেক্ষ। সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন SLP(C) No. 19765-19767 of 2015 মামলার চূড়ান্ত রায়ের উপরই এই পদোন্নতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। এই ব্যবস্থায় পদোন্নতি পেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা নিয়মিত নিয়োগ, স্থায়ী জ্যেষ্ঠতা কিংবা পরবর্তী পদোন্নতির কোনও অধিকার দাবি করতে পারবেন না।

নীতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রথমে কোনও ক্যাডারের সর্বোচ্চ স্তরের পদগুলি পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর সেই পদোন্নতির ফলে নিচের স্তরে যে শূন্যপদ তৈরি হবে, সেগুলি পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ডিপিসি বৈঠকও করা যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের পর প্রয়োজন অনুযায়ী পদোন্নতির তালিকা পুনর্বিবেচনা ও সংশোধন করা হবে। রিভিউ ডিপিসির পর কোনও কর্মচারী পদোন্নতির যোগ্য বলে বিবেচিত না হলে তাঁকে পূর্বের পদে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এছাড়া প্রযোজ্য বিধি অনুসারে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (টিপিএসসি) সঙ্গে পরামর্শ করার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ কিছু কর্মচারী এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অ্যাডহক পদোন্নতিতে কর্মরত থাকতে পারেন।

রাজ্য সরকার এই নীতিকে নিয়মিত পদোন্নতির বিকল্প হিসেবে নয়, বরং প্রশাসনিক কাজকর্ম সচল রাখার জন্য একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় এবং পরবর্তী নির্দেশের উপরই গোটা পদোন্নতি প্রক্রিয়া নির্ভরশীল থাকবে। ফলে নতুন এই নীতি সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে পদোন্নতির সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর স্থায়িত্ব নিয়ে আইনি সিদ্ধান্তের অপেক্ষা থাকছে।

You may also like

Leave a Comment