প্রতি বছর রাজ্যে জন্ম নিচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ জন ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা শিশু, ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে বিশেষ শিবিরের মাধ্যমে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ
আগরতলা, ২ নভেম্বর: জন্মগত ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা পরিষেবা আরও সহজলভ্য করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধীন রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রম (আরবিএসকে), ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ এবং মিশন স্মাইলের যৌথ উদ্যোগে ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ ও ডা. বি. আর. আম্বেদকর মেমোরিয়াল টিচিং হাসপাতালে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ অস্ত্রোপচার শিবির। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আক্রান্ত শিশুদের উন্নত চিকিৎসা এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের সদস্য সচিব ডা. শোভিক জানান, প্রাপ্ত সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী ত্রিপুরায় প্রতি বছর আনুমানিক ৬০ থেকে ৬৫ জন শিশু ঠোঁটকাটা অথবা তালুকাটা সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এই সমস্ত শিশুকে প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করে চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে আরবিএসকে-র মোবাইল স্বাস্থ্যকর্মী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি জানান, আরবিএসকে-র স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। সেই সময় জন্মগত ত্রুটি-সহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের চিহ্নিত করা হয়। ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। অস্ত্রোপচারের উপযুক্ত বলে বিবেচিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অধীনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
ডা. শোভিক আরও বলেন, এই ধরনের জন্মগত সমস্যার ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব রোগ নির্ণয় এবং অস্ত্রোপচার করা অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা হলে শিশুদের খাবার খাওয়া ও কথা বলার ক্ষেত্রে অসুবিধা অনেকটাই দূর করা সম্ভব। পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক সামাজিক জীবন, আত্মবিশ্বাস এবং সামগ্রিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে চিকিৎসায় বিলম্ব হলে কথা বলা, পুষ্টি এবং মানসিক আত্মবিশ্বাসের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।
জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ত্রিপুরায় ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যায় আক্রান্ত মোট ১১৬৫ জন শিশুর সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের জন্য এই উদ্যোগ বিশেষ সহায়ক হয়ে উঠেছে। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুরা বিশেষায়িত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আইএএস আধিকারিক কিরণ গিত্তে, ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ সোসাইটির মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক স্বপন সাহা, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. রিমন দত্ত এবং হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জয়েন্ট মিশন ডিরেক্টর ডা. জ্যোতি দেববর্মা, আরবিএসকে দলের সদস্য জয়ন্ত বর্ধন-সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী।
হাসপাতালের ইএনটি, সার্জারি ও অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের চিকিৎসক এবং অধ্যাপকরা ছাড়াও মিশন স্মাইলের প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। শিবিরে চিকিৎসাধীন শিশু এবং তাঁদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।
জন্মগত শারীরিক সমস্যার কারণে যাতে কোনও শিশুকে স্বাভাবিক জীবন থেকে পিছিয়ে পড়তে না হয়, সেই লক্ষ্যেই রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির এই উদ্যোগ। বিশেষ করে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যেসব পরিবার শিশুদের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেন না, তাঁদের কাছে এই বিনামূল্যের অস্ত্রোপচার কর্মসূচি যথেষ্ট আশার আলো হয়ে উঠেছে।