Home আগরতলালামডিং রেলওয়ে ডিভিশনে উচ্ছেদ অভিযানে বন্ধ প্রায় ২০০ দোকান, অনিশ্চয়তায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রুজি-রোজগার

লামডিং রেলওয়ে ডিভিশনে উচ্ছেদ অভিযানে বন্ধ প্রায় ২০০ দোকান, অনিশ্চয়তায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রুজি-রোজগার

by Debasish
0 comments 3 views

ধর্মনগর রেলস্টেশনেও একাধিক দোকান বন্ধ, লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদের অভিযোগ ব্যবসায়ীদের, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

আগরতলা, ২ নভেম্বর: রেলের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছিলেন বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। কিন্তু একদিনের উচ্ছেদ অভিযানে কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাঁদের ভবিষ্যৎ। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের লামডিং ডিভিশনের বিভিন্ন রেলস্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০০টি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ধর্মনগর রেলস্টেশনের একাধিক দোকানও রয়েছে। রবিবার রেল কর্তৃপক্ষের এই অভিযানের পর কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বহু দোকানদার ও তাঁদের কর্মচারীরা।

জানা গেছে, লামডিং ডিভিশনের অধীন বিভিন্ন রেলস্টেশনে রবিবার এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁদের অনেকেই বৈধ রেলওয়ে লাইসেন্স নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে রেল চত্বরে ব্যবসা করে আসছিলেন। কেউ চা, বিস্কুট বিক্রি করতেন, কেউ যাত্রীদের জন্য রান্না করা খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করতেন। এই দোকানগুলির আয়ের উপর নির্ভর করেই চলত বহু পরিবারের সংসার। কয়েকটি দোকান আবার একই পরিবারের একাধিক প্রজন্ম ধরে পরিচালিত হয়ে আসছিল।

এক ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরে জানান, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন আগে দোকানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সেই ব্যবসার দায়িত্ব নেন। দোকানের আয়ই ছিল পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু হঠাৎ দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সন্তানদের মুখে কীভাবে খাবার তুলে দেবেন, তা ভেবেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুরনো লাইসেন্সধারীদের সরিয়ে দিয়ে দোকানঘরগুলি নতুন করে টেন্ডারের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তাঁরা বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, যাতে তাঁদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে বেশি ভাড়া দিতেও তাঁরা রাজি ছিলেন বলে দাবি। কিন্তু তাঁদের আবেদনে রেল কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক সাড়া দেয়নি বলে অভিযোগ।

এমনকি কয়েকজন ব্যবসায়ী উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আইনি সহায়তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বলেও জানা গেছে। তাঁদের দাবি, আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার পাওয়ার চেষ্টা চলাকালীনই রবিবার রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ) এবং গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) উপস্থিতিতে দোকানগুলি উচ্ছেদ করা হয়। ফলে আইনি লড়াই চালানোর পাশাপাশি জীবিকা হারানোর সংকটেও পড়েছেন তাঁরা।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট রেল আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, রেলস্টেশনের দোকানগুলি শুধুমাত্র ব্যবসার জায়গা নয়, বহু পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু মালিকরাই নন, তাঁদের অধীনে কাজ করা কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। বিকল্প ব্যবস্থা করে পুরনো ব্যবসায়ীদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দেওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা ক্ষুদ্র দোকানদারদের পরিবারগুলির ভবিষ্যতের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।

You may also like

Leave a Comment