পশুপালনে ত্রিপুরার যুবক-যুবতী ও মহিলাদের স্বনির্ভরতার নতুন দিশা
আগরতলা, ৮ অক্টোবর: ত্রিপুরায় বেকার যুবক-যুবতী এবং মহিলাদের জীবিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠছে প্রাণিসম্পদভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ। পোলট্রি, শূকর পালন, হাঁস পালন থেকে শুরু করে গবাদি পশু পালনের মাধ্যমে রাজ্যের বহু মানুষ আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে উঠছেন। বৃহস্পতিবার এক জাতীয় কনক্লেভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনটাই জানালেন প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস।
“Livestock, Livelihoods and Women’s Economic Agency: Targeting the Most Vulnerable” শীর্ষক জাতীয় কনক্লেভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আয়ের সুযোগ বাড়াতে প্রাণিসম্পদ ক্ষেত্র ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কৃষির সঙ্গে যুক্ত সহযোগী ক্ষেত্রগুলির মধ্যে প্রাণিসম্পদ পালন গ্রামীণ পরিবারের জন্য বাড়তি আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস হয়ে উঠেছে বলেও তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরায় পোলট্রি ফার্মিং, শূকর পালন, হাঁস পালন এবং গবাদি পশু পালনের মতো কর্মকাণ্ড গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। এর ফলে বহু বেকার যুবক-যুবতী ও মহিলা নিজস্ব উদ্যোগে কাজ শুরু করে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এক্ষেত্রে ন্যাশনাল লাইভস্টক মিশন (NLM)-এর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন সুধাংশু দাস। তাঁর বক্তব্য, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীরা প্রাণিসম্পদভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি জীবিকার পথও তৈরি হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কেন্দ্রের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
এদিনের জাতীয় কনক্লেভকে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে মোবাইল ভেটেরিনারি অফিসার (MVO), ত্রিপুরা রুরাল লাইভলিহুড মিশন (TRLM)-এর সঙ্গে যুক্ত পশু সখী এবং প্রাণিসম্পদভিত্তিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত মহিলারা এই কনক্লেভের মাধ্যমে নতুন পদ্ধতি ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে পারবেন বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, কনক্লেভ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অংশগ্রহণকারীরা প্রাণিসম্পদভিত্তিক উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতী ও মহিলাদের জন্য জীবিকার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
সুধাংশু দাস বলেন, বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশের মানুষের জীবিকা সুনিশ্চিত করা এবং মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।