Table of Contents
রাজ্যজুড়ে ১৮০ সিসিটিভি, ১৬৯ ওয়াচটাওয়ার ও অতিরিক্ত মোবাইল পেট্রোলিং; আগরতলায় অ্যাম্বুল্যান্স-দমকলের জন্য গ্রিন করিডর
আগরতলা, ৮ অক্টোবর: আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও জোরদার করছে ত্রিপুরা পুলিশ। উৎসব চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ বছর ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর) জওয়ান মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি বাড়ানো হচ্ছে সিসিটিভি নজরদারি, ওয়াচটাওয়ার এবং মোবাইল পেট্রোলিং।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহানির্দেশক জি এস রাও জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন বাড়ানো হবে। বর্তমানে রাজ্যে মোট ২,৯০৫টি দুর্গাপূজা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২,৯২৮। তবে আরও আবেদন জমা পড়লে পূজার সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।
ডিজিপি জানান, গত বছর দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও টিএসআর কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। এ বছর পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সেই সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে।
১৮০ সিসিটিভি ও ১৬৯টি ওয়াচটাওয়ার
উৎসবের দিনগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়াতে রাজ্যজুড়ে প্রায় ১৮০টি অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত এলাকায় তৈরি করা হবে ১৬৯টি ওয়াচটাওয়ার।
মোবাইল পেট্রোলিং আরও শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত গাড়িও ভাড়া নেওয়া হবে। আগরতলায় ইতিমধ্যেই পুজোর কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাজার ও ব্যস্ত এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তাই শহরের ভিড়প্রবণ এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত ২৯টি বাইক পেট্রোলিং টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বছর মহিলা পুলিশ কর্মীর সংখ্যাও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি চালাবেন, যাতে সন্দেহজনক কার্যকলাপ ও অপরাধ দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকলের জন্য গ্রিন করিডর
আগরতলায় প্রায় ৪৫০টি দুর্গাপূজা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উৎসবের সময় যানজট নিয়ন্ত্রণ পুলিশের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পার্কিং ব্যবস্থা, নো-এন্ট্রি জোন, গাড়ি দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত গাড়ির জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থাও থাকবে। পাশাপাশি অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকলের গাড়ি যাতে যানজটে আটকে না পড়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে পারে, সেজন্য গ্রিন করিডর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত পুজোর দিনগুলিতে আগরতলা শহরে বিকেল ৫টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত নো-এন্ট্রি ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম।
রেলস্টেশনগুলিতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)-র পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুজোকে ঘিরে চাঁদাবাজিতে ৫ মামলা
পুজোকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগে চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত পাঁচটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানান জি এস রাও। গত বছর এই ধরনের মামলা হয়েছিল দুটি। চাঁদাবাজি বা অন্য কোনও বেআইনি কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে পুলিশ।
পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে ইতিমধ্যেই বৈঠক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলির সঙ্গেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানও আরও জোরদার করেছে ত্রিপুরা পুলিশ। পুজোর সময় যাতে মাদক সংক্রান্ত কোনও অবৈধ কার্যকলাপ না ঘটে, সেজন্য বিশেষ নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সেটিই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।