দুর্গাপূজার প্রাক্কালে মানবিক উদ্যোগে সামিল প্রশাসনিক আধিকারিকরা, সাফাইকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দিল টিসিএস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন
আগরতলা, ১২ অক্টোবর: প্রশাসনিক পদমর্যাদা কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়েও সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের মন জয় করা যায় না, বরং আন্তরিকভাবে কাজের মাধ্যমেই জনসাধারণের আস্থা অর্জন করতে হয়। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা।
দুর্গাপূজার প্রাক্কালে আগরতলায় ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আইজিএম হাসপাতাল ও ডেন্টাল কলেজের সাফাইকর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা যাতে সমাজের প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সিভিল সার্ভিস আধিকারিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব কেবল প্রশাসনিক কাজকর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সমাজের অসহায় ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করাও তাঁদের কর্তব্যের অংশ হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, রক্তদান শিবিরের আয়োজন, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা সম্ভব। প্রশাসনিক আধিকারিকদের এই ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি করে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের সূত্রে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে মানিক সাহা বলেন, মানুষের কাছে শুধু আশ্বাস দিয়ে তাঁদের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়। মানুষের জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ধারাবাহিকভাবে কাজের মধ্য দিয়েই প্রশাসনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও ভরসা তৈরি হয়।
এদিন ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস (টিসিএস) আধিকারিকদের রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় অবদানের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে অনুষ্ঠিত জি-২০ বিজ্ঞান বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রেও টিসিএস আধিকারিকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ হ্রাস এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কমপ্লায়েন্স বা নিয়ম মেনে চলার বাধ্যবাধকতা কমানোর ক্ষেত্রে ত্রিপুরা পরপর দু’বছর জাতীয় স্তরে প্রথম স্থান অর্জন করেছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এটিকে রাজ্যের প্রশাসনিক সাফল্যের অন্যতম দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য কথার চেয়ে কাজের উপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সচিব কিরণ গিত্তে, টিসিএস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সচিব অসীম সাহা, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবশ্রী দেববর্মা এবং আইজিএম হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. নির্মল সরকার-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।