Home আগরতলাজৈব চাষই গ্রামীণ সমৃদ্ধির নতুন পথ, ত্রিপুরাকে ‘অর্গানিক হাব’ করার লক্ষ্যে সরকার: মন্ত্রী রতন লাল নাথ

জৈব চাষই গ্রামীণ সমৃদ্ধির নতুন পথ, ত্রিপুরাকে ‘অর্গানিক হাব’ করার লক্ষ্যে সরকার: মন্ত্রী রতন লাল নাথ

by Debasish
0 comments 26 views

আগরতলা, ২ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরার কৃষিক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা। প্রথমবারের মতো রাজ্য থেকে ইউরোপের বাজারে রপ্তানি হলো মোট ১৮.৭ মেট্রিক টন জৈব কৃষিপণ্য। এর মধ্যে রয়েছে কালিকাসা সুগন্ধি চাল, স্টিকি রাইস, কালো চাল এবং হরিনারায়ণ চাল।

আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে আয়োজিত ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ফর অর্গানিক প্রোডাকশন (NPOP)-এর সচেতনতা কর্মসূচিতে এই তথ্য জানান কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ। অনুষ্ঠানে ইউরোপের বাজারের উদ্দেশে জৈব সুগন্ধি চালের চালান আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্ল্যাগ অফ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, প্রতিথি অর্গানিক ফুডস প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে পাঠানো হচ্ছে ১৮.৭ মেট্রিক টন জৈব সুগন্ধি চাল। এর মধ্যে ১.২ মেট্রিক টন কালিকাসা, ১.৫ মেট্রিক টন স্টিকি রাইস, ৬ মেট্রিক টন কালো চাল এবং ১০ মেট্রিক টন হরিনারায়ণ চাল রয়েছে।

রতন লাল নাথ বলেন, উর্বর মাটি, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের কারণে জৈব কৃষির ক্ষেত্রে ত্রিপুরার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরেই ফসলের পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন, মিশ্র চাষ এবং জৈব সার ব্যবহারের মতো পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছেন।

তিনি বলেন, নিমভিত্তিক কীটনাশক, গোবর সার এবং জৈবিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মাধ্যমে মাটির উর্বরতা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা হচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যের বহু কৃষকগোষ্ঠী ঐতিহ্যবাহী কৃষিজ্ঞানকে আধুনিক সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে আন্তর্জাতিক মানের কৃষিপণ্য উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ত্রিপুরার কালিকাসা চাল, আদা, সুগন্ধি লেবু, বার্ডস আই লঙ্কা এবং জিআই-ট্যাগপ্রাপ্ত কুইন আনারস ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও পৌঁছেছে। দিল্লি, মহারাষ্ট্র, বেঙ্গালুরু, গুজরাট, পশ্চিমবঙ্গ ও গুয়াহাটির পাশাপাশি জার্মানি, দুবাই, ওমান এবং বাংলাদেশেও ত্রিপুরার কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়েছে।

সরকারের বর্তমান সময়ে রাজ্যে মোট ২৬,৬০০ হেক্টর জমি জৈব চাষের আওতায় রয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। এর মধ্যে ১৪,৪১১ হেক্টর নিবন্ধিত এলাকা, ২,০০২ হেক্টর জমি রূপান্তরকালীন পর্যায়ে এবং আরও ১০,১৮৯ হেক্টর এলাকা বিবেচনাধীন রয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের সম্মিলিতভাবে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি করতে মোট ৫৩টি ফার্মার প্রডিউসার কোম্পানি (FPC) গঠন করা হয়েছে।

রতন লাল নাথ বলেন, জৈব কৃষিকে গ্রামীণ সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন সহায়তা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “কৃষকদের পাশে থেকে, উৎপাদক সংস্থাগুলিকে শক্তিশালী করে এবং রপ্তানিকারক, প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে ত্রিপুরাকে জৈব কৃষির ক্ষেত্রে একটি উৎকর্ষের কেন্দ্রে পরিণত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

জৈব চাষের আওতায় সুগন্ধি ও স্টিকি চালের পাশাপাশি আদা, হলুদ, বার্ডস আই লঙ্কা, সর্ষে, তিল, ফক্সটেল মিলেট এবং কুইন ও কিউ আনারসের মতো ফসলও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। MOVCDNER-সহ বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে এই কৃষকদের সহায়তা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন APEDA-র চেয়ারম্যান অভিষেক দেব, IAS, ত্রিপুরার কৃষি দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, IAS, APEDA-র সচিব ড. স্বশ্বতী বোস, কৃষি অধিকর্তা ড. ফণীভূষণ জমাতিয়া, TSOFDA-র মিশন ডিরেক্টর রাজীব দেববর্মা, NABARD-এর জেনারেল ম্যানেজার তনুশ্রী ভট্টাচার্য-সহ কৃষি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা।

You may also like

Leave a Comment