আগরতলা: রাজ্যে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া কোনওভাবেই থমকে থাকবে না। প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে কয়েকটি ক্ষেত্রে সাময়িক বিলম্ব হলেও প্রক্রিয়াধীন নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা। পাশাপাশি ষোড়শ অর্থ কমিশনের সুপারিশের পর ‘গ্যাপ ফান্ড’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজ্যের আর্থিক চ্যালেঞ্জ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি নিয়োগ একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।
কিছু কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কোথাও কোথাও বিলম্ব হয়েছে। তবে সেই জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেল দপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যে শূন্যপদ রয়েছে, সেগুলিতেও পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “যে কোনও পরিস্থিতিতেই চাকরির প্রক্রিয়া বন্ধ হবে না।” ফলে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার বার্তা দিল রাজ্য সরকার।
গ্যাপ ফান্ড বন্ধে আর্থিক চাপষোড়শ অর্থ কমিশনের সুপারিশের পর ‘গ্যাপ ফান্ড’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এর ফলে ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি ও প্রান্তিক রাজ্যগুলি আর্থিকভাবে সমস্যার মুখে পড়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে উল্লেখ করেন তিনি।সম্প্রতি মেঘালয়ের শিলংয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে বৈঠকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির পক্ষ থেকে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
পাহাড়ি ও প্রান্তিক রাজ্যগুলির জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা বা বিকল্প ফান্ডের প্রয়োজনীয়তার কথাও কেন্দ্রের কাছে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপের আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নজরদারিনিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাজার পরিস্থিতির ওপর সরকারের নজর রয়েছে। ইতিমধ্যে খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও কথা বলে অহেতুক বা অসৎ উপায়ে পণ্যের দাম না বাড়ানোর জন্য সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।নারী স্বনির্ভরতার উপর জোরমহিলা স্বশক্তিকরণের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নারীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে রাজ্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ, সেলাই মেশিন বিতরণের পাশাপাশি সফলভাবে পরীক্ষা উত্তীর্ণ মহিলাদের চালক পদেও নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মহিলাদের আত্মনির্ভর করে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
চাকরি, আর্থিক সহায়তা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং নারী ক্ষমতায়ন—এই চারটি ক্ষেত্রেই সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।