দলীয় কার্যালয়ে সাংগঠনিক বৈঠক, তৃণমূল স্তরে সংগঠন আরও শক্তিশালী করার কৌশল নিয়ে আলোচনা
বিশেষ প্রতিনিধি, আগরতলা, ১ সেপ্টেম্বর:
বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার ত্রিপুরা বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পশ্চিম ত্রিপুরার সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। আগরতলায় বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠককে ঘিরে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
বৈঠকে দলের সাংগঠনিক বিষয়, আগামী দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ত্রিপুরায় তৃণমূল স্তরে বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাজ্য বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায়-সহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বিপ্লব কুমার দেবের সাংগঠনিক দক্ষতার প্রশংসা করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায় বলেন, বড় দায়িত্ব সামলানোর সক্ষমতার পাশাপাশি দলের কর্মী ও পদাধিকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে কাজ করার ক্ষমতাও একজন সফল রাজনৈতিক নেতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুণ।
তিনি বলেন, বিভিন্ন স্তরের দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিপ্লব দেবের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে। তাঁর সাংগঠনিক পদ্ধতি ত্রিপুরায় বিজেপির সংগঠন সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও দাবি করেন অভিষেক দেবরায়।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি আরও বলেন, যে নেতা সহকর্মী এবং তৃণমূল স্তরের কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে পারেন, তিনি সংগঠনকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হন। বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে ত্রিপুরায় বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তার সেই ধরনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নেতাদের দায়িত্ব ও সাংগঠনিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক দেবরায় বলেন, সময়ের সঙ্গে একজন নেতা তাঁর নির্দিষ্ট পদ থেকে সরে যেতে পারেন, কিন্তু সংগঠনের জন্য তাঁর অবদান দলের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকে। ত্রিপুরায় বিজেপির বিস্তারে বিপ্লব দেবের সাংগঠনিক ভূমিকা দলের রাজনৈতিক যাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠকের শেষে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা, সংগঠনকে আরও সুসংহত করা এবং আগামী দিনের কর্মসূচিগুলিকে সফলভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাতীয় স্তরে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর বিপ্লব দেবের এই প্রথম রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বৈঠকে জোর দেওয়ায় আগামী দিনে ত্রিপুরা বিজেপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।