আগরতলা, ২৫ আগস্ট: ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সমন্বয়ে সমৃদ্ধ ত্রিপুরাকে আরও কাছ থেকে জানার আহ্বান জানালেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। মঙ্গলবার আগরতলার ২১ সেক্টর অসম রাইফেলস সদর দপ্তরের আলফা অডিটোরিয়ামে ‘Tripura: A Land of Timeless Tales’ শীর্ষক প্রকাশনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই প্রকাশনা ত্রিপুরার পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরার পাশাপাশি রাজ্যের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রকৃতিকে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ গাইড হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল ২১ সেক্টর অসম রাইফেলসের সদর দপ্তর এবং প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত সকলকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, প্রতিবছর লিভ ট্রাভেল কনসেশন (LTC)-এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা কর্মীদের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেকের কাছেই এই অঞ্চলের পর্যটনকেন্দ্র, যাতায়াত ও থাকার সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য থাকে না। সেই ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রকাশনা বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে।
রাজ্যপাল বলেন, মন্দির বা প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্র ঘোরার পাশাপাশি বর্তমানে পর্যটকদের মধ্যে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস, রাফটিং, মাউন্টেনিয়ারিং, নেচার ট্রেইল, পার্ক, নাইট সাফারি, বোটিং ও অন্যান্য বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের মতো ত্রিপুরাতেও পর্যটকদের জন্য বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বিশেষভাবে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে যাওয়া, হোমস্টেতে থাকা এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আতিথেয়তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য পর্যটকদের উৎসাহিত করেন। তাঁর মতে, ত্রিপুরাকে শুধু মানচিত্রের একটি পর্যটনস্থল হিসেবে দেখলে হবে না; এর প্রকৃত সৌন্দর্য ও আত্মাকে উপলব্ধি করতে হলে মানুষের কাছাকাছি যেতে হবে।
‘Tripura: A Land of Timeless Tales’ প্রকাশনাটিকে একটি ‘উষ্ণ ও আকর্ষণীয় আমন্ত্রণ’ হিসেবে উল্লেখ করে রাজ্যপাল বলেন, এতে ত্রিপুরার বহু শতাব্দীর ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য, প্রকৃতি এবং জীবন্ত সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ত্রিপুরার অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ, মাতাবাড়ির মা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির, ঊনকোটির প্রাচীন শিলাচিত্র, নীরমহল ও রুদ্রসাগরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পিলাক ও বক্সনগরের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল।
তবে তিনি বলেন, ত্রিপুরার আসল শক্তি শুধু ঐতিহাসিক স্থাপত্য বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের উৎসব, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প, জীবনযাত্রা ও প্রকৃতিনির্ভর সংস্কৃতিও ত্রিপুরার পর্যটনের অন্যতম সম্পদ।
ত্রিপুরার বনাঞ্চল, নদী, হ্রদ ও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যগুলির অপার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ‘Tripura: A Land of Timeless Tales’ প্রকাশনার মাধ্যমে রাজ্যের পর্যটনের বিভিন্ন দিককে একত্রে তুলে ধরা হয়েছে, যা প্রতিরক্ষা কর্মী, পর্যটক এবং ট্যুর অপারেটরদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী হবে।
অনুষ্ঠানে রাজ্যপালের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সচিব উত্তম কুমার চাকমা, অসম রাইফেলসের ডিআইজি ব্রিগেডিয়ার নিশান্ত চন্দেল, মেজর পূর্বা সিং, কর্নেল সাহিন শর্মা, এসএম-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।