Home আগরতলাADC-তে ২৫০-র বেশি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত ও নিয়োগ বাতিলের দাবিতে সিপিআই(এম)-এর গণঅবস্থান

ADC-তে ২৫০-র বেশি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত ও নিয়োগ বাতিলের দাবিতে সিপিআই(এম)-এর গণঅবস্থান

by Debasish
0 comments 24 views

আগরতলা, ২৪ আগস্ট: ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (TTAADC)-এ নিয়োগ নিয়ে কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামল সিপিআই(এম)-এর সহযোগী উপজাতি সংগঠনগুলি। সোমবার আগরতলার আস্তাবল ময়দানের কাছে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির পাদদেশে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করে গণমুক্তি পরিষদ (GMP), ট্রাইবাল ইয়ুথ ফেডারেশন (TYF) এবং ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (TSU)।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি পেশ করা হয়। এর মধ্যে ADC-তে কথিত অনিয়মের মাধ্যমে করা নিয়োগ বাতিল, বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং ১২৫তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের দাবি অন্যতম প্রধান।

গণঅবস্থানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ করেন, গত পাঁচ বছরে ADC-তে ২৫০-র বেশি নিয়োগ করা হয়েছে, যেখানে প্রচলিত নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা সাক্ষাৎকারের মতো নির্ধারিত প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি।

জিতেন্দ্র চৌধুরীর দাবি, এ সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলায় (PIL) হাইকোর্টে দাখিল করা জবাবে ADC কর্তৃপক্ষ ওই নিয়োগগুলির বিষয়টি স্বীকার করেছে। কীভাবে এই নিয়োগগুলি করা হয়েছিল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও নিয়ম লঙ্ঘন হয়ে থাকলে তার জন্য কারা দায়ী—তা নির্ধারণ করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

নিয়োগে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, যোগ্য প্রার্থীদের প্রতিযোগিতার সুযোগ না দিয়ে যদি নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে এবং তা নিয়োগবিধির পরিপন্থী হয়, তাহলে সেই নিয়োগ বহাল রাখা যায় না।

ADC-তে বর্তমানে বা ভবিষ্যতে শূন্য পদগুলি নতুন করে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূরণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলি। স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্ত যোগ্য প্রার্থীকে সমান সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, সরকারি পদে নিয়োগ কোনও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা ইচ্ছার ভিত্তিতে হতে পারে না। যথাযথ নির্বাচন প্রক্রিয়া ছাড়া নিয়োগ করা হলে যোগ্য ও শিক্ষিত যুবকদের ন্যায্য প্রতিযোগিতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিনের কর্মসূচি থেকে ১২৫তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের দাবিও ফের জোরালো করা হয়। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের স্বশাসিত জেলা পরিষদগুলির ক্ষমতা ও কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী করতে সংবিধানগত সুরক্ষা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি।

সংগঠনগুলির মতে, ADC-কে আরও ক্ষমতায়নের পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলি পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেও দাবি করা হয়।

এদিন জিতেন্দ্র চৌধুরী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বারবার দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে পর্যাপ্ত সংশোধনমূলক পদক্ষেপ দেখা যায়নি। শুধু আশ্বাস নয়, কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অভিযোগ না ওঠে, তার জন্য শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিও জানান তিনি।

You may also like

Leave a Comment