আগরতলা, ২০ আগস্ট: চাইল্ড কেয়ার লিভের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা দপ্তরে পড়ে থাকার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল ত্রিপুরা হাইকোর্ট। এক মহিলা শিক্ষিকার আবেদন বিবেচনা করে তাঁকে অবিলম্বে এক বছরের চাইল্ড কেয়ার লিভ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিত।
মামলার আবেদনকারী তপসী রায় শঙ্করাচার্য বিদ্যানিকেতনের পোস্টগ্র্যাজুয়েট শিক্ষক। সন্তানের দেখাশোনার জন্য তিনি গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর মোট ৭৩০ দিনের চাইল্ড কেয়ার লিভের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শিক্ষা দপ্তরের তরফে সেই আবেদন অনুমোদন করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ত্রিপুরা স্টেট সিভিল সার্ভিস লিভ রুলসের সংশোধিত বিধানকে ঘিরে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সি সন্তানের দেখাশোনার জন্য মহিলা সরকারি কর্মীরা সর্বোচ্চ ৭৩০ দিন পর্যন্ত চাইল্ড কেয়ার লিভ পাওয়ার অধিকারী। এই ছুটি একবারে অথবা একাধিক ধাপে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং ছুটিকালীন বেতনও প্রাপ্য।
তবে শুনানিতে শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে ২০২০ সালের ৪ আগস্ট জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তির উল্লেখ করে দাবি করা হয়, একটানা ৩০ দিনের বেশি চাইল্ড কেয়ার লিভ দেওয়া যায় না।
এর বিরোধিতা করে আবেদনকারীর পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট পুরুষোত্তম রায় বর্মণ আদালতকে জানান, ওই বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই ২০২৪ সালে হাইকোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, লিভ রুলসে মহিলা সরকারি কর্মীদের জন্য সর্বোচ্চ ৭৩০ দিনের যে অধিকার নির্ধারিত রয়েছে, তা কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খর্ব করা যায় না।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিত রাজ্য সরকারকে আবেদনকারী তপসী রায়কে অবিলম্বে এক বছরের চাইল্ড কেয়ার লিভ মঞ্জুর করার নির্দেশ দেন।
আবেদনকারীর পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট পুরুষোত্তম রায় বর্মণের সঙ্গে আইনজীবী সমরজিৎ ভট্টাচার্য ও কৌশিক নাথ সওয়াল করেন।
হাইকোর্টের এই নির্দেশ মহিলা সরকারি কর্মী, বিশেষ করে শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে চাইল্ড কেয়ার লিভ সংক্রান্ত বিধিবদ্ধ অধিকার কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্তরে অযথা বিলম্ব রুখতেও এই নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।