আগরতলা, ১৯ আগস্ট: আগরতলায় এক ব্যবসায়ীর বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বুধবার একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে শহরের দুটি পৃথক স্থানে এই অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
জানা গেছে, বুধবার ভোরে আখাউড়া রোড সংলগ্ন ওয়েস্টার্ন ক্লাব এলাকায় ব্যবসায়ী শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে পৌঁছয় ইডির একটি দল। একই সময়ে আরেকটি দল বাত্তলা ফিটিং মার্কেটে তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালায়। দুই জায়গাতেই বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি ও নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। অভিযানের সময় শাহজাহান মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সূত্রের দাবি, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি অর্থের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ব্যবসায়ীর কথিত গতিবিধি ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও তদন্তকারী সংস্থা তথ্য খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
অভিযানের আগে কয়েকদিন ধরে ইডি তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল বলেও সূত্রের দাবি। বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ইডির হঠাৎ তল্লাশি অভিযানে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
তল্লাশির সময় ব্যবসায়ীর বাড়ি ও দোকান থেকে বিভিন্ন নথিপত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী খতিয়ে দেখেন ইডির আধিকারিকরা। বুধবার দুপুর পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ বা বড় ধরনের কোনও সামগ্রী উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তের স্বার্থে কিছু নথি ইডি আধিকারিকরা সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।
এদিকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শাহজাহান মিয়া জানান, তাঁর বাড়ি ও দোকানে ইডি কেন তল্লাশি চালাচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
তবে এখনও পর্যন্ত ইডির পক্ষ থেকে এই অভিযান সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। কী অভিযোগের ভিত্তিতে তল্লাশি এবং তদন্তের পরিধি কতটা, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। উদ্ধার হওয়া বা সংগ্রহ করা নথিপত্রের প্রাথমিক পরীক্ষার পরই তদন্তের পরবর্তী দিক স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার দুপুর পর্যন্ত ব্যবসায়ীর বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ইডির তল্লাশি ও নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছিল। তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের পরই গোটা বিষয়টি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।