Home আগরতলাতিপ্রাসাদের ভূমি অধিকারের দাবি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি গঠন রাজ্য সরকারের

তিপ্রাসাদের ভূমি অধিকারের দাবি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি গঠন রাজ্য সরকারের

by Debasish
0 comments 0 views

আগরতলা, ৭ নভেম্বর : টিটিএএডিসি (TTAADC) এলাকার দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত সমস্যা ও ভূমি অধিকারের দাবি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল ত্রিপুরা সরকার। এই বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজস্ব দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

গঠিত কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকবেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব। কমিটিতে থাকছেন টিটিএএডিসি-র মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সচিব, রাজস্ব দপ্তরের সচিব ও অতিরিক্ত সচিব এবং ভূমি রেকর্ড ও বন্দোবস্ত অধিকর্তা। অন্যদিকে, টিটিএএডিসি-র পক্ষ থেকে ভূমি রেকর্ড ও বন্দোবস্ত বিভাগের প্রিন্সিপাল অফিসার এবং আইন বিভাগের প্রিন্সিপাল অফিসার কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করবেন।

উল্লেখ্য, স্বশাসিত জেলা পরিষদ এলাকায় জনজাতি সম্প্রদায়ের জমির অধিকার, ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান নিয়ে রাজ্য সরকার ও জনজাতি প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তিপ্রা মথা দলের প্রতিষ্ঠাতা তথা রাজ পরিবারের সদস্য প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য দেববর্মা। সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি এই কমিটি গঠনকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আলোচনার মাধ্যমে যে সমঝোতা তৈরি হয়েছিল, এই কমিটি গঠন তারই বাস্তব প্রতিফলন। এর ফলে ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্ত পক্ষের বক্তব্য ও উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রদ্যোত কিশোরের কথায়, ভূমি অধিকারের দাবি কোনও ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। এই দাবি মূলত নিজস্ব পরিচয় রক্ষা, ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা এবং আগামী প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে তিনি সমস্যার সমাধানে সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, টিটিএএডিসি এলাকার ভূমি সমস্যা দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই উচ্চপর্যায়ের এই যৌথ কমিটির মাধ্যমে সমস্যাগুলি কতটা বাস্তবসম্মতভাবে পর্যালোচনা করা হয় এবং ভূমি অধিকার সংক্রান্ত দাবির সমাধানে কী ধরনের সুপারিশ উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

ইতিমধ্যে রাজস্ব দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিটি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আধিকারিকদের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সচিব এবং মুখ্যসচিবের কাছেও বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তিটি ত্রিপুরা গেজেটে প্রকাশের জন্য সরকারি প্রেসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

You may also like

Leave a Comment