আগরতলা, ৭ অক্টোবর: শিল্প ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য জমির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে অব্যবহৃত চা-বাগানের জমি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে ত্রিপুরা সরকার। বুধবার পশ্চিম ত্রিপুরার রেন্টার্স কলোনিতে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও নেতাজি সুভাষ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিকভাবে ত্রিপুরা দেশের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য। রাজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আওতায় রয়েছে। ফলে নতুন শিল্প, প্রতিষ্ঠান কিংবা বড় প্রকল্পের জন্য সরকারি জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬’-এ প্রায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু এত বিপুল বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিত করাই সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অব্যবহৃত চা-বাগানের জমিকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের নতুন শিল্প ও অন্যান্য উদ্যোগ স্থাপনের জন্য অব্যবহৃত চা-বাগানের জমি বরাদ্দ করা হবে। এর ফলে রাজ্যে জমির ক্রমবর্ধমান চাহিদার সমস্যা অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় আরও সম্প্রসারণ
এদিনের অনুষ্ঠানে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ৬০ আসন বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও নেতাজি সুভাষ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে ত্রিপুরায় তিনটি মেডিকেল কলেজ চালু রয়েছে এবং সেখানে মোট ৫০০টি এমবিবিএস আসন রয়েছে। পাশাপাশি আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতালে বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্সও চালু রয়েছে।
এছাড়াও ধলাই জেলার আমবাসায় আরও একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ গড়ে উঠছে বলে জানান তিনি। ওই মেডিকেল কলেজে ১০০টি এমবিবিএস আসন থাকবে। রাজ্যে একাধিক নার্সিং কলেজ, প্যারামেডিক্যাল প্রতিষ্ঠান এবং ফার্মেসি কলেজও চালু রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মানিক সাহার দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে চিকিৎসার জন্য ত্রিপুরার বাইরে রোগী পাঠানোর প্রবণতা বা রেফারেল কেস উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।