Home দেশত্রিপুরার যুবককে বর্ণবিদ্বেষী হেনস্তার মামলা: আমির সোকিনকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল্লির আদালতের

ত্রিপুরার যুবককে বর্ণবিদ্বেষী হেনস্তার মামলা: আমির সোকিনকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল্লির আদালতের

by Debasish
0 comments 5 views

নয়াদিল্লি, ২৪ অক্টোবর: ত্রিপুরার এক যুবককে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও অপমানজনক আচরণের মাধ্যমে হেনস্তা করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমির সোকিনকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল দিল্লির একটি আদালত। এই ঘটনায় আরও কারা জড়িত, তা চিহ্নিত করতে অভিযুক্তকে গুজরাটের আমেদাবাদে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে আমেদাবাদে ঘটনাটি ঘটেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ভিডিওটিতে ত্রিপুরার এক যুবককে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও অপমানজনক আচরণের শিকার হতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নজরে আসার পর স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবার আমির সোকিনকে গ্রেফতার করা হয়।

দিল্লি পুলিশের ইন্টেলিজেন্স ফিউশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অপারেশনস (IFSO) ইউনিট এই ঘটনার তদন্ত করছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চল সংক্রান্ত বিশেষ পুলিশ ইউনিট SPUNER-এর কাছ থেকে যোগাযোগ পাওয়ার পর তদন্তের প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘটনার সঙ্গে সাত থেকে আটজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেই কারণে আমির সোকিনকে আমেদাবাদে নিয়ে গিয়ে অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভিডিওটি কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছিল, পাশাপাশি সেটি কীভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশককে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে, দিল্লিতে বসবাসকারী ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীদের সংগঠন ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম দিল্লি (TSFD) ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। SPUNER-এর জয়েন্ট কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগে সংগঠনটি ভিডিওতে ত্রিপুরার যুবককে বর্ণবিদ্বেষী হেনস্তার শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে।

সংগঠনটির দাবি, ঘটনার মূল ভিডিও, ডিজিটাল মেটাডেটা, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং ভিডিও আপলোডের ইতিহাস-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি, তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।

You may also like

Leave a Comment