Home আগরতলাঅপমানের প্রতিবাদে লেসনজিতের পাশে প্রদ্যোত, দিল্লিতে সাক্ষাৎ করে দিলেন সাহস ও সংহতির বার্তা

অপমানের প্রতিবাদে লেসনজিতের পাশে প্রদ্যোত, দিল্লিতে সাক্ষাৎ করে দিলেন সাহস ও সংহতির বার্তা

by Debasish
0 comments 9 views

আগরতলা, ২৪ অক্টোবর: সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তি ও অপমানের শিকার ত্রিপুরার যুবক লেসনজিতের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার বার্তা দিলেন তিপরা মথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য দেববর্মণ। দিল্লিতে লেসনজিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে সাহস জোগানোর পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের পরিচয়, আত্মসম্মান ও ঐক্য রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।

দিল্লি থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় প্রদ্যোত লেসনজিতকে ত্রিপুরার সন্তান হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁর কথায়, অপমানজনক মন্তব্য বা কটূক্তির মাধ্যমে কারও পরিচয় ও মর্যাদাকে ছোট করা যায় না। লেসনজিতের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনও পরিস্থিতিতেই যেন নিজের পরিচয় নিয়ে হীনম্মন্যতায় না ভোগেন। বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের অধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো উচিত।

সাক্ষাৎকালে লেসনজিত জানান, প্রদ্যোতের সঙ্গে দেখা করতে পেরে তিনি অত্যন্ত খুশি। তবে একই সঙ্গে কিছুটা নার্ভাসও ছিলেন তিনি। কথোপকথনের মধ্য দিয়ে সেই অস্বস্তি কাটানোর চেষ্টা করেন প্রদ্যোত। যুবকটি আগে কখনও কেএফসি-র খাবার খাননি জানতে পেরে তাঁর জন্য সুইগির মাধ্যমে খাবার আনার ব্যবস্থাও করেন তিনি। এই ছোট্ট উদ্যোগের মধ্য দিয়ে লেসনজিতের প্রতি আন্তরিকতা প্রকাশ করেন প্রদ্যোত।

যুবকটির ভবিষ্যৎ ও বাড়ি ফেরার বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি। লেসনজিতকে প্রথমে কাঞ্চনপুরের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং ত্রিপুরায় ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। অপমানের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ নিয়েও দু’জনের মধ্যে আলোচনা হয়। অভিযুক্তকে জেলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঠিক হয়েছে কি না, তা লেসনজিতের কাছে জানতে চান প্রদ্যোত। যুবকটি সম্মতি জানালে তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, এই লড়াইয়ে তিনি একা নন, তাঁর পাশে রয়েছেন আরও অনেকে।

প্রদ্যোত বলেন, ত্রিপুরার মানুষ, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা এবং জনজাতি সমাজের সদস্য হিসেবে প্রত্যেকেরই গর্বিত হওয়ার অধিকার রয়েছে। কেউ অপমানজনক কথা বললে তা নীরবে মেনে না নিয়ে আত্মমর্যাদা ও অধিকারের প্রশ্নে প্রতিবাদী হওয়ার বার্তাও দেন তিনি।

এদিনের সাক্ষাতে রাজনীতির বাইরেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রদ্যোত। তাঁর বক্তব্য, মানুষের বিপদে সাহায্য করতে হলে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক নয়; প্রয়োজন উদার মন ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি।

সাক্ষাতের সময় ত্রিপুরার আরও দুই যুবক নাইশা ও ফাদুরিয়াংয়ের উপস্থিতির কথাও জানান প্রদ্যোত। ফাদুরিয়াং কাঞ্চনপুরের বাসিন্দা এবং বর্তমানে আহমেদাবাদে কর্মরত। তাঁদেরও ত্রিপুরায় ফিরে আসতে উৎসাহিত করেন তিনি।

সাক্ষাতের শেষ পর্বে তিপরা মথার প্রতিষ্ঠাতা ‘থানসা’—অর্থাৎ ঐক্যের বার্তা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, পারস্পরিক সংহতি ও ঐক্যই মানুষের শক্তি। অন্যদিকে, প্রদ্যোতের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়ে নিজের আনন্দ প্রকাশ করেন লেসনজিতও। একই সঙ্গে ত্রিপুরার মানুষের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে অপমানের ঘটনার আবহে এই সাক্ষাৎ শুধু একজন যুবকের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা নয়, বরং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের আত্মপরিচয়, সম্মান ও পারস্পরিক সংহতির প্রশ্নটিকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এল।

You may also like

Leave a Comment