Home আগরতলাপুজোর ভিড় সামলাতে পথে ট্রাফিক পুলিশ! বাজারে বাজারে বৈঠক, অবৈধ পার্কিংয়ে কড়া নজর

পুজোর ভিড় সামলাতে পথে ট্রাফিক পুলিশ! বাজারে বাজারে বৈঠক, অবৈধ পার্কিংয়ে কড়া নজর

by Debasish
0 comments 8 views

মহারাজগঞ্জ বাজার থেকে শুরু সমন্বয় অভিযান—ব্যবসায়ী, বাজার কমিটি, শ্রমিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে যানজটের সমাধান খুঁজবে পুলিশ

আগরতলা, ২৩ সেপ্টেম্বর: দুর্গাপুজোর আগে আগরতলা শহরে বাড়তে চলেছে মানুষের ভিড় ও যানবাহনের চাপ। কেনাকাটা থেকে শুরু করে পুজোর প্রস্তুতিতে শহরের বিভিন্ন বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে মানুষের আনাগোনা। সেই পরিস্থিতিতে যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং পথচারী ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিল ত্রিপুরা ট্রাফিক পুলিশ

পুজোর মরশুমে যানজট মোকাবিলায় এবার শুধু নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং ব্যবসায়ী, বাজার কমিটি, ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন, শ্রমিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খোঁজার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার ট্রাফিক পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ কান্তা জাঙ্গির জানান, আগরতলার গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলিতে ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিকরা যাবেন। সেখানে ব্যবসায়ী, ক্রেতা, বিভিন্ন ইউনিয়নের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে যানজটের কারণ চিহ্নিত করা হবে।

এই বিশেষ সমন্বয় কর্মসূচির সূচনা হয়েছে আগরতলার অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র মহারাজগঞ্জ বাজার থেকে।

ট্রাফিক পুলিশের এসপি জানান, প্রথমে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনা হবে। এরপর দুর্গাপুজোর সময় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কী কী নিয়ম মানতে হবে, তা তাঁদের জানানো হবে।

মহারাজগঞ্জ বাজার প্রসঙ্গে কান্তা জাঙ্গির বলেন, এই এলাকায় নো-এন্ট্রি, ওয়ান-ওয়ে এবং পার্কিং সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা নজরে এসেছে। পাশাপাশি বেআইনি পার্কিংও যান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা তৈরি করছে।

ট্রাফিক পুলিশের মতে, রাস্তার পাশে দীর্ঘ সময় ধরে বড় গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার ফলে যান চলাচলের গতি ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে সমস্যায় পড়ছেন পথচারী ও বাজারে আসা ক্রেতারাও।

তবে এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র জরিমানা বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের উপর নির্ভর করতে চাইছে না ট্রাফিক পুলিশ। বরং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের পথে হাঁটার বার্তা দিয়েছেন ট্রাফিক এসপি।

তিনি জানান, পুলিশের লক্ষ্য শুধুমাত্র নিয়ম ভাঙার জন্য শাস্তি দেওয়া নয়। ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ এবং ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে পুজোর ব্যস্ত সময়েও শহরের রাস্তায় যান চলাচল সচল থাকে।

মহারাজগঞ্জ বাজারের পর আগরতলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার, মোটরস্ট্যান্ড এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকাতেও এই সমন্বয় কর্মসূচি নিয়ে যাওয়া হবে। প্রতিটি এলাকার নিজস্ব সমস্যা চিহ্নিত করে স্থানভিত্তিক সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে বলে ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

দুর্গাপুজোর সময় শহরে কেনাকাটা, পথচারীর চলাচল এবং যানবাহনের সংখ্যা একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় যানজটের আশঙ্কাও বাড়ে। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এবার আগেভাগে প্রস্তুতি শুরু করেছে ট্রাফিক বিভাগ।

শুধু পুজোর কয়েকদিনের জন্য নয়, উৎসবের পরেও এই সমন্বয় ব্যবস্থা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের। দীর্ঘমেয়াদে পুলিশ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে আগরতলা শহরের যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

You may also like

Leave a Comment