আগরতলা, ২১ সেপ্টেম্বর: জন্মগত হৃদরোগের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল আট মাসের শিশু তৃষা চন্দা। উত্তর ত্রিপুরার পানিসাগর মহকুমার পেকুছড়ার বাসিন্দা তৃষার চেন্নাইয়ে সফলভাবে হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার হয়েছে। সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে দ্রুত রেফারের ফলে শিশুটির জীবন নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটল। তৃষাকে ঘিরে এখন পরিবারে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ।
পেকুছড়ার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুরঞ্জিত চন্দা ও টুম্পা চন্দার কন্যা তৃষার হৃদরোগের বিষয়টি প্রথম নজরে আসে রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রম (RBSK)-এর আওতায় স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতায়। গত ২০ জুন ২০২৬ পেকুছড়া আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির (সাব-সেন্টার)-এর কমিউনিটি হেলথ অফিসার (CHO) সন্ধ্যা দেববর্মার নজরে আসে শিশুটির শারীরিক সমস্যা।
বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করেন তিনি। পাশাপাশি পরবর্তী চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয়ও করা হয়। এরপর গত ১১ আগস্ট আগরতলার আইজিএম হাসপাতালে তৃষার ইকোকার্ডিওগ্রাম করা হয়। পরীক্ষায় শিশুটির জন্মগত হৃদরোগ ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।
এরপর তৃষাকে নিয়ে যাওয়া হয় চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো চিলড্রেনস হাসপাতালে। সেখানে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রস্তুতির পর ৯ সেপ্টেম্বর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সফলভাবে তৃষার হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয় শিশুটিকে। শারীরিক অবস্থার সন্তোষজনক উন্নতি হওয়ায় পরে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অবশেষে তৃষা ফিরে এসেছে নিজের বাড়িতে। পেকুছড়ার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ছোট্ট তৃষাকে ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবেশীরাও তাকে স্বাগত জানান আনন্দের সঙ্গে।
তৃষার বাবা-মা পানিসাগরের RBSK মেডিক্যাল টিম, CHO সন্ধ্যা দেববর্মা এবং চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, সময়মতো শিশুটির অসুস্থতা শনাক্ত করা এবং দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই তৃষার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।