আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর: জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে অভিযোগ আসা কিংবা সংবাদমাধ্যমে তা প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে প্রশাসনকে নিজ উদ্যোগে সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত টাস্ক মনিটরিং সিস্টেম (TMS)-এর বৈঠকে প্রশাসনের আধিকারিকদের আরও সক্রিয়, সংবেদনশীল ও দায়বদ্ধ ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রীর সচিব তথা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব কিরণ গিত্তে TMS পোর্টারের কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সরকারি দফতর সংক্রান্ত সামাজিক ও বৈদ্যুতিন মাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়গুলি কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে আচরণ করতে হবে এবং তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জেলা শাসকদের নিজ নিজ জেলার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
বৈঠকে লাইসেন্সবিহীন স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি আগরতলার গোলবাজার এলাকায় অবৈধ পার্কিং সমস্যা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এসপি (ট্রাফিক)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্ঘটনা ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে রাজ্যের ট্রমা সেন্টারগুলিকে সর্বদা সচল ও প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ধারাবাহিক সচেতনতা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া এবং ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বেইলি ব্রিজগুলির অবস্থাও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। যেসব সেতুতে মেরামতির প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য বলে জানানো হয়।
খেলাধুলার ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যাতে কোনও ক্রীড়াবিদ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন বা তাঁর ক্রীড়াজীবনে বাধা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে ক্রীড়াবিদদের সহযোগিতা করার জন্য আধিকারিকদের বলা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিক কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলির দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতেই TMS ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি কাজে গাফিলতি বা অযথা বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না বলেও আধিকারিকদের সতর্ক করেন তিনি। জেলা শাসক ও পুলিশ আধিকারিকদের আরও নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা এবং জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে রাজ্যের আট জেলার জেলা শাসক ও পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি অংশ নেন। এছাড়াও বিভিন্ন দফতরের প্রধান সচিব, সচিব, অধিকর্তা এবং অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
TMS বৈঠকে আধিকারিকদের সক্রিয় ও দায়বদ্ধ হওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার
2
previous post