Home শিক্ষা‘শিক্ষক সঙ্কটে বিপর্যয়ের মুখে শিক্ষা ব্যবস্থা, দ্রুত শূন্যপদ পূরণ করতে হবে’: বিধানসভায় জিতেন্দ্র চৌধুরী

‘শিক্ষক সঙ্কটে বিপর্যয়ের মুখে শিক্ষা ব্যবস্থা, দ্রুত শূন্যপদ পূরণ করতে হবে’: বিধানসভায় জিতেন্দ্র চৌধুরী

by Debasish
0 comments 22 views

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ আগস্ট: রাজ্যের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক সঙ্কট, প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষকদের অনিশ্চয়তা এবং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষক ঘাটতি নিয়ে বিধানসভায় সরব হলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শূন্যপদ পূরণ না হওয়ায় রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষক সঙ্কট দূর করার দাবি জানান তিনি।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, স্থায়ী শিক্ষক পর্যাপ্ত না থাকায় রাজ্যের বহু বিদ্যালয় সর্বশিক্ষা অভিযান ও সমগ্র শিক্ষা অভিযানের আওতায় কর্মরত শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন পরিষেবা দেওয়ার পরও তাঁদের বেতন-ভাতা ও চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে নানা অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইন্টারনাল টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের প্রায় চার হাজার প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা বিদ্যালয়ে পরিষেবা দিয়ে আসছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।

শিক্ষা দপ্তরে শিক্ষক ও কর্মীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষা দপ্তরে প্রায় ২২ হাজার পদ কমেছে। একদিকে শূন্যপদ রয়েছে, অন্যদিকে যোগ্যতা অর্জন করেও বহু যুবক-যুবতী নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই পরিস্থিতি শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধী দলনেতা। বিভিন্ন কলেজে স্থায়ী শিক্ষক-শিক্ষিকার ঘাটতি মেটাতে গেস্ট লেকচারার ও পার্ট-টাইম শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফি বৃদ্ধির ফলে সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জিতেন্দ্র চৌধুরীর বক্তব্য, শিক্ষা কোনও দপ্তরের সাধারণ বিষয় নয়; এটি রাজ্যের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ গঠনের প্রধান ভিত্তি। তাই রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে সরকারকে অবিলম্বে শূন্যপদ পূরণ, শিক্ষক সঙ্কট দূরীকরণ এবং প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজ্যের আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

You may also like

Leave a Comment