Home ত্রিপুরাসোশ্যাল মিডিয়ায় সময় নষ্ট নয়, পড়াশোনা ও দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হও: মন্ত্রী সুধাংশু দাস

সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় নষ্ট নয়, পড়াশোনা ও দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হও: মন্ত্রী সুধাংশু দাস

by Debasish
0 comments 1 views

তফশিলি জাতিভুক্ত মেধাবী পড়ুয়াদের ড. বি. আর. আম্বেদকর স্বর্ণপদক ও মেধা পুরস্কার প্রদান

আগরতলা, ৯ অক্টোবর: প্রতিদিন ঈশ্বর আমাদের জীবনে নতুন করে ৮৬ হাজার ৪০০ সেকেন্ড সময় দেন। এই সময় কীভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে নিজের উপর। তাই সোশ্যাল মিডিয়া ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও দেখে অযথা সময় নষ্ট না করে পড়াশোনা, জ্ঞান অর্জন এবং দক্ষতা বিকাশে মনোনিবেশ করতে হবে। বৃহস্পতিবার আগরতলার নজরুল কলাক্ষেত্রে আয়োজিত এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের উদ্দেশে এই বার্তা দেন রাজ্যের তফশিলি জাতি কল্যাণমন্ত্রী সুধাংশু দাস।

ত্রিপুরা সরকারের তফশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম দশের মধ্যে স্থান অর্জনকারী তফশিলি জাতিভুক্ত মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের ড. বি. আর. আম্বেদকর স্বর্ণপদক ও মেধা পুরস্কার প্রদান করে সংবর্ধিত করা হয়। পাশাপাশি পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ পড়ুয়াদেরও সম্মানিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো মানসম্মত শিক্ষা। শিক্ষার প্রসার এবং পড়ুয়াদের সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, সমাজেরও সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, সাফল্য অর্জনের পর আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। তাই জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সাফল্য ধরে রাখতে হলে নিয়মিত অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের প্রয়োজন।

ড. বি. আর. আম্বেদকরের জীবনসংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সামাজিক বৈষম্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আম্বেদকর শিক্ষার প্রতি তাঁর নিষ্ঠা বজায় রেখেছিলেন। সেই অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়ের জোরেই তিনি ব্যারিস্টার, দার্শনিক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন এবং ভারতীয় সংবিধানের অন্যতম প্রধান রূপকার হয়ে ওঠেন। তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদেরও বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে নিজেদের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরে সুধাংশু দাস বলেন, গুণগত শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতা অর্জনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তফশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা ও পেশাদার শিক্ষার জন্য বিভিন্ন বৃত্তি এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। যোগ্য মেডিক্যাল পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৃত্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য হোস্টেলসহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে কিছু সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে আয়ের ঊর্ধ্বসীমা আড়াই লক্ষ টাকা রয়েছে। সেটিকে বাড়িয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে, তবে তা অনুমোদনসাপেক্ষ।

সময়ের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন প্রত্যেকের হাতে ৮৬ হাজার ৪০০ সেকেন্ড সময় থাকে। এই সময়কে যদি টাকার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে প্রতিদিন ৮৬ হাজার ৪০০ টাকা পাওয়ার মতোই বিষয়টি দাঁড়ায়। কিন্তু সেই সময়ের কতটা পড়াশোনা, নতুন কিছু শেখা এবং ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে ব্যয় করা হচ্ছে, তা ভেবে দেখা জরুরি।

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া ও রিলসের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি পড়ুয়াদের মনোযোগ এবং সময়ের সঠিক ব্যবহারে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। পড়ুয়াদের জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়কে ‘সোনালি সময়’ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই সময়ের যথাযথ ব্যবহারই ভবিষ্যতের পথ তৈরি করে। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে পড়াশোনা, দক্ষতা অর্জন ও আত্মনির্ভর নাগরিক হয়ে ওঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।

You may also like

Leave a Comment