চড়িলামের করাইমুড়া হায়ার বেসিক স্কুলে আচমকা পরিদর্শন। পরীক্ষা না দেওয়া ৭ পড়ুয়ার বাড়িতে গিয়ে কথা বললেন শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা, নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর আশ্বাস অভিভাবকদের।
আগরতলা, ৩ নভেম্বর : বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের উপস্থিতি বাড়াতে এবার শুধু স্কুল পরিদর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না শিক্ষা দপ্তর। দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে আসা পড়ুয়াদের চিহ্নিত করে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ফিরিয়ে আনা এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এই উদ্যোগের অঙ্গ হিসেবে সোমবার সিপাহীজলা জেলার চড়িলামের করাইমুড়া হায়ার বেসিক স্কুল আচমকা পরিদর্শন করেন প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের একটি দল। দলের নেতৃত্বে ছিলেন দপ্তরের উপ-অধিকর্তা অয়িন্দ্রিলা মজুমদার। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিক ও বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
পরিদর্শনকালে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পঠনপাঠনের মান, সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ, মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা এবং পড়ুয়াদের উপস্থিতি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষাদানের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি শিক্ষকদের নিষ্ঠা, দায়বদ্ধতা, ধৈর্য এবং পড়ুয়াদের প্রতি তাঁদের আন্তরিকতার প্রশংসা করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বাসনা রানি দাসের উদ্যোগে গড়ে ওঠা কিচেন গার্ডেনও পরিদর্শন করেন আধিকারিকরা। তাঁদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শিশুদের সামগ্রিক বিকাশের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে এই পরিদর্শনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনিয়মিত সাতজন পড়ুয়ার বাড়িতে সরাসরি পৌঁছে যাওয়া। শুধু বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতিই নয়, ওই পড়ুয়াদের কয়েকজন পরীক্ষাতেও অংশগ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে। কেন তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে আসছে না, সেই কারণ জানতে পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন উপ-অধিকর্তা অয়িন্দ্রিলা মজুমদার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিজিৎ সমাজপতি, যতন দেববর্মা, পঙ্কজ দলাল এবং স্কুল পরিদর্শক উত্তম কুমার দত্ত।
এদিন অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর বিষয়ে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান আধিকারিকরা। পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্বও তাঁদের সামনে তুলে ধরা হয়। আধিকারিকদের এই উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দেন পড়ুয়া ও তাঁদের অভিভাবকরা। ভবিষ্যতে সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর আশ্বাসও দেন তাঁরা।
এদিকে, বিদ্যালয়ের নার্সারি বিভাগ এবং নিপুণ ত্রিপুরা (NIPUN Tripura) কর্মসূচির অধীনে পঠনপাঠনের পদ্ধতিও খতিয়ে দেখেন পরিদর্শক দল। দেখা যায়, শিক্ষকরা শিশুদের বয়স, বোঝার ক্ষমতা এবং শেখার প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেরাই বিভিন্ন ধরনের শিক্ষণ-শিখন সামগ্রী (TLM) তৈরি করে শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার করছেন। এই পদ্ধতিতে শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরে ভাষা ও গণিত শিক্ষার ভিত আরও মজবুত হচ্ছে বলে মনে করেন আধিকারিকরা।
শিক্ষা দপ্তরের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যালয়ে নাম নথিভুক্ত করানোর পাশাপাশি প্রত্যেক পড়ুয়ার নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা। কারণ, বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াই শিক্ষার একমাত্র শর্ত নয়, বরং নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে শিক্ষার ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলে বিদ্যালয়ছুট ও অনিয়মিত পড়ুয়ার সংখ্যা কমানো এবং শিক্ষার মান উন্নত করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। করাইমুড়া হায়ার বেসিক স্কুলে এই বিশেষ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সেই বার্তাই তুলে ধরল শিক্ষা দপ্তর।