আগরতলা, ২৭ আগস্ট: পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নে ত্রিপুরায় জোর দেওয়া হলেও অর্থের সংস্থান, জমির প্রাপ্যতা এবং বন দফতরের ছাড়পত্রের জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিধানসভায় এমনটাই জানালেন পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন এবং টিএমপি বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, গত তিন বছরে রাজ্যে ১২টি ছোট ও মাঝারি পর্যটন প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৮৭ কোটি ৮৭ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, বর্তমানে রাজ্যে পাঁচটি বড় পর্যটন পরিকাঠামো প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পে ৪০০ কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে উনকোটিতে প্রায় ৭২ কোটি টাকার রিসর্ট, ছবিমুড়ায় ৬০ কোটি টাকার পর্যটন উন্নয়ন প্রকল্প এবং জিরানিয়ায় ১০৫ কোটি টাকার প্রকল্প রয়েছে। এছাড়া স্বদেশ দর্শন প্রকল্পের আওতায় মাতাবাড়িতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার পর্যটন প্রকল্পের কাজ চলছে।
মন্ত্রী জানান, সম্পন্ন হওয়া ১২টি প্রকল্পের মধ্যে প্রায় চারটি পর্যটন গন্তব্য রয়েছে এডিসি এলাকার মধ্যে। এর মধ্যে কমলপুরের সুরমা ছড়া, শান্তিরবাজার মহকুমার আবাহাং ছড়া এবং গন্ডাছড়ার নারিকেল কুঞ্জে ওয়েসাইড অ্যামেনিটিজের মতো প্রকল্প রয়েছে।
এডিসি এলাকায় আরও পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবি প্রসঙ্গে সুশান্ত চৌধুরী বলেন, বড় পর্যটন প্রকল্পের ক্ষেত্রে রাজ্যের নিজস্ব তহবিলের তুলনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও সংস্থার ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়। স্বদেশ দর্শন, ডোনার এবং এনইসি-র মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করা হচ্ছে।
ত্রিপুরার ভৌগোলিক এলাকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পর্যটন প্রকল্প বাস্তবায়নে বন দফতরের অনুমোদনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে জানান মন্ত্রী। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়।
এদিকে, ছবিমুড়ার সংলগ্ন বড় জলাশয়টিকেও পর্যটন সার্কিটের আওতায় আনার দাবি জানান বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন। তাঁর মতে, জলাশয়টির পর্যটনকেন্দ্রিক উন্নয়ন করা হলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও উপকৃত হবেন।
এডিসি এলাকায় পর্যটন পরিকাঠামো তৈরিতে বন দফতরের ল্যান্ড ব্যাংক ব্যবহারের পাশাপাশি এডিসির আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের দাবিও ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বন দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন পর্যটনমন্ত্রী।