Home আগরতলা১৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা, ১৫৪ শাখা ও ৯০০ আধিকারিক—ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্যে প্রশংসা মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর

১৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা, ১৫৪ শাখা ও ৯০০ আধিকারিক—ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্যে প্রশংসা মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর

by Debasish
0 comments 28 views

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২২ আগস্ট: ত্রিপুরার গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকার প্রশংসা করলেন রাজ্যের পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগামী দিনে ব্যাংকের ব্যবসার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শনিবার আগরতলায় ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন মন্ত্রী। শনিবার শুরু হওয়া এই সম্মেলন চলবে রবিবার পর্যন্ত।

ব্যাংক আধিকারিক, বিভিন্ন ব্যাংকিং সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুশান্ত চৌধুরী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং গ্রামাঞ্চলের মানুষের আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্যেই রিজিওনাল রুরাল ব্যাংকগুলির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। সেই লক্ষ্য পূরণে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের মোট ব্যবসার পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং ব্যাংকের নিট মুনাফা ১৮৪ কোটি টাকারও বেশি। ব্যাংকের আর্থিক অগ্রগতি ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই অগ্রগতিকে তিনি ধীরে ধীরে আকাশে উড্ডয়ন করা বিমানের সঙ্গে তুলনা করেন।

ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের শাখা সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বিশ্রামগঞ্জ, বিশালগড়, জোলাইবাড়ি ও কাঞ্চনপুর—এই চারটি শাখা দিয়ে ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাংকের ১৫৪টি শাখা রয়েছে এবং প্রায় ৯০০ জন আধিকারিক কর্মরত। এর মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের মধ্যে ব্যাংকের গ্রহণযোগ্যতা ও বিস্তারের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।

গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে ব্যাংকের নিবিড় সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন সুশান্ত চৌধুরী। কৃষি, মাইক্রোফাইন্যান্স এবং এমএসএমই ক্ষেত্রে ব্যাংকের অবদানের প্রশংসা করে তিনি ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংককে ‘মাটির সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। রাজ্য সরকারের একাধিক দপ্তরও এই ব্যাংকে নিজেদের অর্থ জমা রাখে বলে জানান তিনি।

বর্তমান সময়ে ব্যাংকিং পরিষেবার ব্যাপক পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এটিএম এবং ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মতো আধুনিক পরিষেবা চালু হয়েছে। তবে একইসঙ্গে অনলাইন আর্থিক প্রতারণার ঘটনা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে গ্রাহকদের সুরক্ষায় ব্যাংকগুলিকে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

ত্রিপুরার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকার যোগসূত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য অর্জন করতে হলে গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি এবং এমএসএমই ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। দেশের কোনও অংশ বা কোনও ক্ষেত্রকে পিছনে রেখে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিন রিজিওনাল রুরাল ব্যাংকগুলির ভবিষ্যতে শেয়ার বাজারে আইপিও-র মাধ্যমে প্রবেশের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন সুশান্ত চৌধুরী। তাঁর দাবি, গ্রামীণ ব্যাংকগুলির আইপিও আনার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই আলোচনায় রয়েছে। ভবিষ্যতে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক আইপিও নিয়ে বাজারে এলে রাজ্যের মানুষও আগ্রহের সঙ্গে তার শেয়ার কিনবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ছোট রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক ইতিমধ্যেই একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে বলে জানান মন্ত্রী। আগামী দিনে ব্যাংকের ব্যবসার পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বার্ষিক সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের নিষ্ঠা, দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান সুশান্ত চৌধুরী। কর্মীদের নিষ্ঠা ও সংগঠনের কার্যকর ভূমিকার ওপরই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে বলে উল্লেখ করে তিনি গ্রাহকবান্ধব পরিষেবা আরও জোরদার করার পাশাপাশি ব্যাংকের আর্থিক শক্তি ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া রিজিওনাল রুরাল ব্যাংকিং অফিসার্স ফোরাম/ফেডারেশনের সভাপতি সাগর যোশী, অল ইন্ডিয়া রিজিওনাল রুরাল ব্যাংক অফিসার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৃজন কুমার পাল, ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার্স কনফেডারেশনের সম্পাদকসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

You may also like

Leave a Comment