নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২২ আগস্ট: রাজ্যে সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ শুল্ক বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি ঘোষণাকে ঘিরে রাজ্য সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা। শুল্ক বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের পূর্ববর্তী বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান সিদ্ধান্তের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
আশিস কুমার সাহার বক্তব্য, সম্প্রতি পর্যন্ত রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী দাবি করে এসেছেন যে বিদ্যুতের শুল্ক পুনর্নির্ধারণ কিংবা নতুন চার্জ আরোপের বিষয়টি নিয়ন্ত্রক কমিশনের আওতাধীন। এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ দফতরের কোনও ভূমিকা নেই বলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। কংগ্রেস সভাপতির অভিযোগ, এই যুক্তির মাধ্যমে সরকার শুল্ক বৃদ্ধির দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।
তাঁর দাবি, বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধির পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ধীরে ধীরে এই ক্ষোভ গণআন্দোলনের রূপ নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। গত কয়েক মাস ধরে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট অবস্থান জানানোর দাবি জানানো হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন আশিস কুমার সাহা।
১০০ কোটি টাকার ভর্তুকি ঘোষণার সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, বিদ্যুতের বর্ধিত বিল দিয়ে সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই যখন অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করেছেন, তখন এতদিন পর কেন ভর্তুকি ঘোষণা করা হল? একইসঙ্গে এই ঘোষণা উপলক্ষে শাসকদলের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর্মসূচি আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ভর্তুকি নিয়ে সরকারের কাছে একাধিক বিষয়ে স্পষ্টতা দাবি করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর প্রশ্ন, মোট কত টাকার আর্থিক প্রয়োজন হবে, ভর্তুকির মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকরা প্রকৃতপক্ষে কতটা সুবিধা পাবেন, কারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন এবং কীভাবে গ্রাহকদের কাছে ভর্তুকির অর্থ পৌঁছবে—এসব বিষয় সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে।
আশিস কুমার সাহা বলেন, শুধু ঘোষণা করলেই হবে না, বাস্তবে সাধারণ গ্রাহকরা কতটা আর্থিক স্বস্তি পাচ্ছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। ভর্তুকি কার্যকর হওয়ার পর তার বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের প্রাপ্ত সুবিধা পর্যালোচনা করেই কংগ্রেস পরবর্তী কর্মসূচি ও আন্দোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ শুল্ক বৃদ্ধি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সরকারের ভর্তুকি ঘোষণার পরও বিরোধীদের প্রশ্ন এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—এই দুইয়ের মধ্যে বিষয়টি আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।