পুলিশি নিরাপত্তায় মিছিল করে মনোনয়নপত্র দাখিল প্রার্থীদের, বামেদের সঙ্গে কোনও নির্বাচনী সমঝোতা নয় বলে স্পষ্ট বার্তা গোমতী জেলা কংগ্রেস সভাপতির
আগরতলা, ৩ নভেম্বর: আসন্ন ২৭ নভেম্বরের নগর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন পুর ও নগর এলাকায় নির্বাচনী তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র দুদিন বাকি। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার উদয়পুর, বিশালগড় এবং কুমারঘাটে একাধিক আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিল কংগ্রেস। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে মিছিল করে রিটার্নিং অফিসারদের দপ্তরে পৌঁছান প্রার্থীরা।
উদয়পুরে মঙ্গলবার দুপুরে জামতলায় কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল বের হয়। পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মিছিলটি মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়। উদয়পুরের ২৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থীরা এদিন মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গোমতী জেলা কংগ্রেস সভাপতি টিটন পাল নির্বাচনে দলের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আসন্ন নগর নির্বাচনে সিপিআইএম কিংবা অন্য কোনও বামপন্থী দলের সঙ্গে কংগ্রেসের নির্বাচনী সমঝোতা হবে না।
উদয়পুর শহরের উন্নয়ন ও নাগরিক পরিষেবাকেই নির্বাচনী প্রচারের মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে পানীয় জলের ব্যবস্থা, বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবার কর হ্রাস, রাস্তায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিশালগড় পৌর পরিষদের সাতটি আসনে কংগ্রেস প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মঙ্গলবার দলীয় মিছিলের মাধ্যমে প্রার্থীরা রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে পৌঁছে রিটার্নিং অফিসার বিঞ্চি সাহার হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দেন।
একইভাবে কুমারঘাট পৌর পরিষদেও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে কংগ্রেস। ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে মঙ্গলবার ৩, ৪, ৫, ৬, ৮, ৯, ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন উনকোটি জেলা কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রিন্টু লাল দেব, অসিত দেব, সুভাষ দাস, ফুলকুমারী গোস্বামী এবং মাম্পি দাস। মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে কুমারঘাট কংগ্রেস কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করে শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করেন দলীয় প্রার্থী ও সমর্থকরা। পরে তাঁরা মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পাদক সত্যবান দাস, সাধারণ সম্পাদক তরুণ সাহা সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
তিনটি এলাকাতেই মনোনয়ন জমাকে ঘিরে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। প্রার্থীদের দাবি, তাঁরা জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। তবে শেষ পর্যন্ত নগর নির্বাচনের লড়াইয়ে কংগ্রেস কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তা নির্ধারণ হবে আগামী ২৭ নভেম্বরের ভোটের ফলাফলে।