Home আগরতলা‘সুদীপ জায়গা না দিলে আপনি আজ শূন্য!’ অভিষেক দেবরয়কে নীলকমলের তীব্র আক্রমণ

‘সুদীপ জায়গা না দিলে আপনি আজ শূন্য!’ অভিষেক দেবরয়কে নীলকমলের তীব্র আক্রমণ

by Debasish
0 comments 19 views

বিজেপি সভাপতির মন্তব্যের জবাবে সরব যুব কংগ্রেস সভাপতি, ‘সুদীপের ফোন একদিন হাতে পেলে দু’ঘণ্টাতেই ছুড়ে ফেলবেন’

আগরতলা, ৯ সেপ্টেম্বর: কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণকে নিয়ে বিজেপি প্রদেশ সভাপতি ও বিধায়ক অভিষেক দেবরয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। এবার পাল্টা আক্রমণে সরব হলেন ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি নীলকমল সাহা।

বিশালগড় জেলা যুব কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজিত ছয় ঘণ্টার গণধর্নায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক দেবরয়ের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন নীলকমল। তাঁর দাবি, সুদীপ রায় বর্মণের রাজনৈতিক ভূমিকা ও জনসংযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে অভিষেক দেবরয়ের নিজের রাজনৈতিক অতীত মনে রাখা উচিত।

অভিষেক দেবরয়ের একটি অডিও বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নীলকমল বলেন, সুদীপ রায় বর্মণের কাছ থেকে কী শেখার আছে—এমন প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি বিধানসভায় সুদীপের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ার অভিযোগও তোলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এর জবাবে নীলকমলের বিস্ফোরক মন্তব্য, “অভিষেক দেবরয়কে এই মঞ্চ থেকেই বলতে চাই—আপনি অন্য রাজ্যে ২০ হাজার টাকা বেতনে ক্লার্কের কাজ করতেন। সেখান থেকে আপনাকে এনে আজ নেতা বানিয়েছে যে ব্যক্তি, তিনি হলেন সুদীপ রায় বর্মণ।”

সুদীপ রায় বর্মণের জনসংযোগ নিয়েও বিজেপিকে নিশানা করেন যুব কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর দাবি, হাসপাতালের বেড থেকে শুরু করে রক্তের ব্যবস্থা—বিভিন্ন সমস্যায় প্রতিদিন বহু মানুষ সুদীপ রায় বর্মণের কাছে ফোন করেন। এমনকি বিজেপির কর্মী-সমর্থকরাও বিভিন্ন প্রয়োজনে তাঁর কাছে ফোন করেন বলে দাবি নীলকমলের।

তিনি আরও বলেন, “সুদীপ রায় বর্মণের ফোন যদি একদিনের জন্য আপনার হাতে তুলে দেওয়া হয়, তাহলে দু’ঘণ্টার মধ্যেই আপনি সেই ফোন ছুড়ে ফেলে দেবেন। কারণ এত মানুষের সমস্যা সামলানোর ক্ষমতা আপনার নেই।”

অভিষেক দেবরয় যে দল ও নেতার বিরুদ্ধে কথা বলছেন, সেই কংগ্রেস এবং সুদীপ রায় বর্মণের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলার অধিকার তাঁর নেই বলে দাবি করেন নীলকমল। তাঁর অভিযোগ, সুদীপ রায় বর্মণের রাজনৈতিক সহযোগিতার কারণেই অভিষেকের রাজনৈতিক উত্থানের পথ তৈরি হয়েছিল।

এদিনের বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে কংগ্রেসের ভূমিকার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নীলকমল। পাশাপাশি ব্রিটিশ আমলে আরএসএসের ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ করেন তিনি।

সুদীপ রায় বর্মণকে নিয়ে ‘অসম্মানজনক’ মন্তব্য না করার জন্য অভিষেক দেবরয়কে সতর্ক করে নীলকমল বলেন, “আমাদের নেতা আমাদের গর্ব, আমাদের গৌরব। আমাদের নেতাকে অসম্মান করে কথা বলবেন না।” তাঁর দাবি, সুদীপ রায় বর্মণ সাধারণ মানুষের প্রকৃত নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন।

এদিনের ছয় ঘণ্টার গণধর্নায় নিয়োগ প্রক্রিয়া, পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কার্যকলাপ নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরে যুব কংগ্রেস। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচারী’ মনোভাবের অভিযোগও তোলেন নীলকমল।

যুব কংগ্রেসের দাবি, নিয়োগ ও পরীক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই গণধর্নার আয়োজন। কর্মসূচিতে যুব কংগ্রেসের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিজেপি ও কংগ্রেসের দুই নেতার পরস্পরবিরোধী মন্তব্যকে ঘিরে আগামী দিনে ত্রিপুরার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

You may also like

Leave a Comment