Table of Contents
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা: টেট (TET) পাশ করলেই সরাসরি সরকারি চাকরি পাওয়া যায় না। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শূন্যপদ, সরকারি অনুমোদন এবং পরবর্তী নির্বাচন প্রক্রিয়াই মূল বিষয়। বিধানসভায় শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আলোচনায় বিষয়টি স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।
শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, টেট এবং সিলেকশন টেস্টকে ঘিরে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। টেট মূলত শিক্ষকতার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট শূন্যপদ তৈরি হলে সেই পদ পূরণের জন্য সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট শূন্যপদের জন্য TRBT-র কাছে রিকুইজিশন পাঠানো হয় এবং নিয়ম মেনে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, তাঁর কাছে থাকা রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৫ সালের আগের বছরগুলিতে টেট উত্তীর্ণ এমন কোনও প্রার্থী নেই, যিনি নিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আগের বছরগুলির টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিভিন্ন পদে নিয়োগের পরিসংখ্যান
শিক্ষক নিয়োগের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, STGT-এর ৭০০টি পদে পরীক্ষা ও নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। তবে আইনি জটিলতার কারণে আরও ২৩০টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রয়েছে।
এছাড়া STPGT-এর ৯১৫টি পদের মধ্যে ৮৬২ জন প্রার্থীকে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা ইতিমধ্যেই বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ২০২৬ সালে ৬১ জন কম্পিউটার সায়েন্স শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষা অধিকারের আওতায় ১২৫টি মিউজিক টিচারের পদ সৃষ্টিতে অর্থ দপ্তরের অনুমোদন মিলেছে।
প্রি-প্রাইমারি স্তরেও নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। ৩৫২টি শূন্যপদের জন্য TRBT নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। এছাড়া ২০২২ সালে ৮৮ জন এবং ২০২৬ সালে আরও ৫৭ জন স্পেশাল এডুকেটর নিয়োগ করা হয়েছে।
এছাড়াও ২০২৬ সালে ১০৫ জন ফিজিক্যাল এডুকেশন টিচার এবং ২০২৫ সালে ১১৭ জন স্কুল লাইব্রেরিয়ান পদের জন্য নির্বাচন পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে বিধানসভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বিদ্যাজ্যোতি নিয়েও জবাব মুখ্যমন্ত্রীর
বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্পের আওতাধীন স্কুলগুলিতে ফি আদায় ও পরিকাঠামো নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নেরও জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিষয়গুলি নিয়ে বিধানসভায় আগেও আলোচনা হয়েছে এবং সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।
শূন্যপদ অনুযায়ী নিয়োগ অব্যাহত রাখার আশ্বাস
সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা জানান, নির্ধারিত নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়া মেনে স্বচ্ছতার সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ চালিয়ে যাবে সরকার। শূন্যপদ সৃষ্টি, সরকারি অনুমোদন এবং নিয়োগবিধি অনুযায়ী ধাপে ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলেও বিধানসভায় আশ্বাস দেন তিনি।
অর্থাৎ, টেট উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষকতার জন্য যোগ্যতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও, সরাসরি চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়; নিয়োগ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট শূন্যপদ ও পরবর্তী নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর।