Home আগরতলাদুধ উৎপাদন বাড়াতে ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগ, বামুটিয়ায় ৪০ হাজার লিটারের নতুন ডেইরি ইউনিট—মন্ত্রী সুধাংশু দাস

দুধ উৎপাদন বাড়াতে ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগ, বামুটিয়ায় ৪০ হাজার লিটারের নতুন ডেইরি ইউনিট—মন্ত্রী সুধাংশু দাস

by Debasish
0 comments 6 views

দুগ্ধ সমবায়ে কৃষকের সংখ্যা ১০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য, বাড়ানো হবে উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা

আগরতলা, ৩০ সেপ্টেম্বর: রাজ্যে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়িয়ে চাহিদা মেটাতে আরও জোরদার উদ্যোগ নিচ্ছে ত্রিপুরা সরকার। দুধ উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, বিপণন এবং দুগ্ধচাষীদের সহায়তা বাড়াতে রাজ্যের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তর, গোমতী কো-অপারেটিভ মিল্ক ইউনিয়ন এবং ন্যাশনাল ডেইরি ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (NDDB) মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার গোমতী কো-অপারেটিভ মিল্ক ইউনিয়নের ১৩তম বোর্ড বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী সুধাংশু দাস। বৈঠকের পর মন্ত্রী জানান, রাজ্যে দুধের চাহিদার তুলনায় স্থানীয় উৎপাদন এখনও কম। তাই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে এই ঘাটতি পূরণ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

মন্ত্রী বলেন, দুধ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পুষ্টিকর খাদ্য। রাজ্যে দুধের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দুগ্ধজাত পণ্যের প্রক্রিয়াকরণ, বাজারজাতকরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা এবং NDDB-এর প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, গোমতী কো-অপারেটিভ মিল্ক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রতন ঘোষ জানান, বর্তমানে ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৬,৬৪২ জন দুগ্ধচাষী। আগামী দিনে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০ হাজারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৫২টি দুধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি গঠনের বিষয়েও বোর্ড বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকে কামালপুরের ত্রিধা ডেইরি অধিগ্রহণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পাশাপাশি বামুটিয়ায় নতুন ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ডেইরি প্ল্যান্ট, যা ইউনিট-২ হিসেবে পরিচিত, সেটি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

রতন ঘোষ জানান, ১৯৮২ সালে ইন্দ্রনগরে মাত্র ৫ হাজার লিটার প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা নিয়ে গোমতী ডেইরির যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে সেই ক্ষমতা বেড়ে ৪০ হাজার লিটারে পৌঁছেছে। নতুন ইউনিট চালুর মাধ্যমে রাজ্যের দুধ প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের লাভজনকতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে গোমতী ডেইরির পক্ষ থেকে চার ধরনের দুধ, দুই ধরনের পনির, ঘি, আইসক্রিম, প্যাকেটজাত পানীয় জল এবং প্রায় ৭৫ ধরনের মিষ্টি বাজারজাত করা হচ্ছে।

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি গবাদিপশু পালনকারী ও দুগ্ধচাষীদের আরও বেশি সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও বোর্ড বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী সুধাংশু দাস, গোমতী কো-অপারেটিভ মিল্ক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রতন ঘোষ, NDDB-এর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সমন্বয়কারী সব্যসাচী রায়, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের সচিব, মিল্ক ইউনিয়নের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সচিবসহ অন্যান্য বোর্ড সদস্য ও আধিকারিকরা।

You may also like

Leave a Comment