Home আগরতলাদূরত্ব ঘুচিয়ে এবার ঘরে বসেই চিকিৎসা! ২৫ সেপ্টেম্বর চালু ‘ডিজিটাল হাসপাতাল’ পরিষেবা

দূরত্ব ঘুচিয়ে এবার ঘরে বসেই চিকিৎসা! ২৫ সেপ্টেম্বর চালু ‘ডিজিটাল হাসপাতাল’ পরিষেবা

by Debasish
0 comments 1 views

ভিডিও কনফারেন্স ও AI প্রযুক্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ, হোয়াটসঅ্যাপে পৌঁছে যাবে প্রেসক্রিপশন—সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিষেবা

আগরতলা, ২৩ সেপ্টেম্বর: শহর থেকে দূরের প্রত্যন্ত ও পরিষেবাবঞ্চিত এলাকার মানুষের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দিতে বড় উদ্যোগ নিল ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হতে চলেছে বিনামূল্যের ‘ডিজিটাল হাসপাতাল সার্ভিস’। এই পরিষেবার মাধ্যমে বাড়িতে বসেই ভিডিও কনফারেন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর প্রযুক্তির সাহায্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাবেন সাধারণ মানুষ।

কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ভার্চুয়াল কনসালটেশনের মাধ্যমে রোগীর সঙ্গে চিকিৎসকের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন ও চিকিৎসকের পরামর্শের পর প্রেসক্রিপশন সরাসরি রোগীর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পুরো পরিষেবাটিই বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষদের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। রাতের সময় বা জরুরি পরিস্থিতিতে সেই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাড়ির দোরগোড়ায় চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

আয়োজকদের দাবি, এই উদ্যোগ ‘অন্ত্যোদয়’ ও ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সমাজের প্রান্তিক ও পিছিয়ে থাকা মানুষের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আগামী শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিষেবার উদ্বোধন হবে। সাধারণ মানুষকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি নতুন এই পরিষেবার সুবিধা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা।

এদিকে চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি শিক্ষা ও পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রেও নিজেদের পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শহরের যানজট ও কোলাহল থেকে দূরে সবুজে ঘেরা পরিবেশে গড়ে ওঠা এই মেডিকেল কলেজে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। র‍্যাগিং এবং নেশাজাতীয় দ্রব্যের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ গবেষকদের পাশাপাশি সরকারি মেডিকেল কলেজের অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকরাও পড়ুয়াদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে প্রতি বছর ১৫০ জন MBBS পড়ুয়া ভর্তি হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যেই তৃতীয় বর্ষে প্রবেশ করেছে।

চলতি বছর থেকেই স্নাতকোত্তর (PG) কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর MCh ও DM-এর মতো সুপার-স্পেশালিটি কোর্স চালুর লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। বর্তমানে MBBS কোর্সে ভর্তির প্রক্রিয়া তৃতীয় দফার কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে চলছে।

ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ২৫ সেপ্টেম্বরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উল্লাস ফুল কুলকার্নি উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলেও আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মণিপুর সফর থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতির কারণে তিনি অনুষ্ঠানে থাকতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে।

You may also like

Leave a Comment