Home আগরতলা‘যত বেশি সমালোচনা করবেন, ততই জনবিচ্ছিন্ন হবেন’—বিরোধীদের কড়া জবাব মুখ্যমন্ত্রীর

‘যত বেশি সমালোচনা করবেন, ততই জনবিচ্ছিন্ন হবেন’—বিরোধীদের কড়া জবাব মুখ্যমন্ত্রীর

by Debasish
0 comments 5 views

হাওড়া রিভারফ্রন্টে উন্নয়নের বার্তা, চিকিৎসাক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে সমালোচনারও জবাব দিলেন ডাঃ মানিক সাহা

আগরতলা, ২৩ সেপ্টেম্বর: রাজ্যের উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক অভিযোগ আর বাস্তবে সরকারের কাজ—দুটির পার্থক্য মানুষ নিজেরাই বুঝতে পারছেন। বরং সরকারের কাজ নিয়ে যত বেশি সমালোচনা করা হবে, বিরোধীরাই তত বেশি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন।

মঙ্গলবার হাওড়া নদীর তীরে নবনির্মিত হাওড়া রিভারফ্রন্টের উদ্বোধন এবং হাওড়া রিভারফ্রন্ট পার্কিং এলাকা থেকে এয়ারপোর্ট রোডের ভার্চুয়াল উদ্বোধনের অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওরা যা খুশি বলুক। শেষ পর্যন্ত বলার মতো আর কিছু নেই বলেই এসব বলছে। মানুষ সব দেখছেন। যত বেশি এই ধরনের কথা বলা হবে, ততই তাঁরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যাবেন।”

চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রসঙ্গ উঠলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু তার ভিত্তিতে গোটা ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তোলা বা অযথা সমালোচনা করা সমীচীন নয়। তাঁর কথায়, একশো জন চিকিৎসা নিতে এলে যদি একজনের ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তাহলে সেই ঘটনাকেই সামনে রেখে বাকি ৯৯ জনের সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কাজ করতে গেলে কিছু সমস্যা বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে আসতেই পারে। তবে সরকার ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে কাজ করছে এবং আগামী দিনেও সেই মনোভাবেই উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

এদিন হাওড়া নদীকে ঘিরে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, হাওড়া নদীর পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নদীকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাটাখালে ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে স্টিল ব্রিজ থেকে দশমীঘাট পর্যন্ত যে রিভারফ্রন্ট গড়ে উঠেছে, ভবিষ্যতে সেটিকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

গোমতী নদীকে আন্তর্জাতিক জলপথ যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়েছিল। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেই গতি কিছুটা থমকে রয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রায় ১,৭০০ মিটার দীর্ঘ হাওড়া রিভারফ্রন্ট গড়ে তুলতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা। প্রকল্পে রয়েছে হাঁটা ও সাইকেল চালানোর পথ, ভিউয়িং ডেক, এলিভেটেড ওয়াকওয়ে, ওপেন জিম, যোগব্যায়ামের স্থান, জিপলাইন, শিশুদের খেলার মাঠ, বার্ড অ্যাভিয়ারি, নেচার ট্রেইল, ফুড প্লাজা এবং আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট ভিলেজ।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় যে নদীর পাড় আবর্জনা ফেলার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হতো, সেই এলাকাকেই আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব বিনোদনকেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি নদীর পাড়ের বাঁধও শক্তিশালী করা হয়েছে। ফলে অতিবৃষ্টি ও জলস্তর বৃদ্ধির সময় নদী তীরবর্তী এলাকার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে বলে জানান তিনি।

রিভারফ্রন্টের রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রকল্পের আওতায় পাঁচ বছরের Annual Maintenance Contract (AMC) রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পরিকাঠামো রক্ষায় সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নজরদারির জন্য ক্যামেরাও বসানো হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে আগরতলা স্মার্ট সিটি মিশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর রাজধানী শহরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ৯৬০ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে, হাওড়া রিভারফ্রন্ট সেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

You may also like

Leave a Comment