জরুরি স্ক্যান থেকে ওষুধ—চিকিৎসায় দেরি ও অবহেলার অভিযোগ, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন রোগীর পরিজনরা
আগরতলা, ৯ সেপ্টেম্বর: রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বুধবার জিবি হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মৃতের পরিজন ও অন্যান্য রোগীর স্বজনদের একাংশ হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা, জরুরি পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিলম্ব, ওষুধ ও ইঞ্জেকশন সরবরাহ এবং রোগীদের প্রতি আচরণ নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
হাসপাতালে উপস্থিত মৃতের এক আত্মীয়ের অভিযোগ, প্রায় দুপুর দেড়টা নাগাদ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু জরুরি পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও সিরিয়াল অনুযায়ী রোগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, রোগীর সংখ্যা ও বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার চাপ বাড়লেও জরুরি স্ক্যান করাতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ ওই আত্মীয় আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালের কিছু কর্মী ও চিকিৎসক নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন না। সময়মতো রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের সামগ্রিক পরিষেবা নিয়ে রোগী ও পরিজনদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত মৃতের আরও এক আত্মীয় হাসপাতালের কর্মীদের বিরুদ্ধে রোগী ও পরিজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাইতে গিয়ে অনেক সময় রোগীর স্বজনদের অপমানজনক মন্তব্যও শুনতে হচ্ছে।
ওষুধ ও ইঞ্জেকশন সময়মতো না পাওয়ার অভিযোগও ওঠে। নিজের ভাইয়ের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে ওই মহিলা দাবি করেন, রাতে চিকিৎসক একটি ওষুধ লিখে দিলেও সেটি হাসপাতাল থেকে সময়মতো না পেয়ে বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। এমনকী একটি ইঞ্জেকশনের পুরো ডোজও একসঙ্গে দেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। বাকি অংশ পেতে দেরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ক্ষুব্ধ পরিজনদের প্রশ্ন, রোগীর অবস্থা সংকটজনক হলে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের জন্য একজন রোগী বা তাঁর পরিবার কতক্ষণ অপেক্ষা করবেন?
রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতিতে ফের জিবি হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক পরিষেবা, ওষুধের প্রাপ্যতা এবং রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও পরিজনদের তোলা অভিযোগগুলির বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।
তবে রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তেই স্পষ্ট হবে।