আগরতলা, ২৯ আগস্ট: রাজ্যের TET উত্তীর্ণ সকল প্রার্থীরদের শিক্ষক পদে নিয়োগের দাবিতে ফের আন্দোলনে নামলেন চাকরিপ্রার্থীরা। শুক্রবার আগরতলায় মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবন অভিযানে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত TET-১ ও TET-২ উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। এদিনের ঘটনায় একাধিক আন্দোলনকারীকে পুলিশ আটক করে বলে অভিযোগ।
আন্দোলনকারীদের দাবি, TET-১ ও TET-২ মিলিয়ে প্রায় ১,৮৫৬ জন উত্তীর্ণ প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চাকরিপ্রার্থীরা এদিন আগরতলায় এসে তাঁদের দাবি জানাতে আন্দোলনে শামিল হন।
এক আন্দোলনকারী জানান, ধর্মনগর থেকে সাব্রুম, বিলোনীয়া-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে এসেছেন। তাঁদের মূল দাবি, ১,৮৫৬ জন TET উত্তীর্ণ প্রার্থীকে একযোগে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে গেলেও পুলিশ তাঁদের বাধা দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। তাঁদের দাবি, বহু বিদ্যালয়ে অল্প সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে পঠনপাঠন চালাতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষার পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।
চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, ২০১৮ সালের পর থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক অবসর নিয়েছেন। পাশাপাশি ১০,৩২৩ শিক্ষকের চাকরি বাতিলের পরও বহু শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এত শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও TET উত্তীর্ণদের পর্যাপ্ত সংখ্যায় নিয়োগ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।
এদিন পুলিশি বাধার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের আটক করে পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা যায়। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, দ্রুত ১,৮৫৬ জন TET উত্তীর্ণ প্রার্থীর একযোগে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করা হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।