কৈলাসহর, ২৯ আগস্ট: সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের মারধর, হয়রানি এবং আটটি গৃহপালিত গরু জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কৈলাসহরে। ঘটনায় বিএসএফের কয়েকজন জওয়ানের বিরুদ্ধে কৈলাসহর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভগবাননগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা।
অভিযোগকারীদের মধ্যে ছিলেন গৌরনগর আরডি ব্লকের অধীন ভগবাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি আকমদ আলি, স্থানীয় বাসিন্দা মামুদ আলি, রাজু দাস-সহ আরও কয়েকজন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গত ২৬ আগস্ট বিকেলে মোকাম টিলার কাছে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় কয়েকজন গ্রামবাসীকে বিএসএফের সদস্যরা মারধর করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ছুটে আসা আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকেও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় আহমদ আলি নামে এক ব্যক্তি আহত হন বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ভগবাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযোগ, এর মধ্যেই বিএসএফ সদস্যরা আটটি গরু নিয়ে চলে যান। ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক অবরোধে বসেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন গ্রামবাসীরা।
এদিকে, ঘটনার পর বিএসএফের অভিযোগের ভিত্তিতে পরদিন সুলেমান আলি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কৈলাসহর থানার পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় মামলা নম্বর ৫১/২০২৬-এ মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই মামলায় আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে জড়ানো হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারীরা।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা মারধর ও হয়রানির অভিযোগে এখনও কোনও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিএসএফের নিয়ে যাওয়া আটটি গরুও দ্রুত উদ্ধার করে মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। যদিও গ্রামবাসীদের তোলা অভিযোগের বিষয়ে কৈলাসহর থানার পুলিশ কিংবা বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি। ফলে অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।