Home আগরতলাআগরতলায় নতুন দুটি জল শোধনাগার, ১০০ শতাংশ জল সংযোগের লক্ষ্যে সরকার: বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলায় নতুন দুটি জল শোধনাগার, ১০০ শতাংশ জল সংযোগের লক্ষ্যে সরকার: বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী

by Debasish
0 comments 23 views

আগরতলা, ২৭ আগস্ট: আগরতলা শহরের পানীয় জলের সংকট ও জলের গুণমান নিয়ে বিধানসভায় বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায় ও সুদীপ রায় বর্মনের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগরতলায় নতুন দুটি জল শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, নেতাজি আদর্শ শিক্ষা মন্দিরে প্রতিদিন ৫৫০ লক্ষ লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন ভূগর্ভস্থ জল শোধনাগার নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে কলেজ টিলায় তৈরি হবে প্রতিদিন ৬৪১ লক্ষ লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। নেতাজি আদর্শ শিক্ষা মন্দিরের প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এবং কলেজ টিলার প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগরতলা পুরনিগম এলাকায় মোট ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭৫২টি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯২ হাজার ৫৯০টি পরিবারে পানীয় জলের সংযোগ বা জল পরিষেবার আওতায় আনা হয়েছে, যা মোট পরিবারের ৬৪.৭৮ শতাংশ। বাকি পরিবারগুলিকেও দ্রুত জল পরিষেবার আওতায় এনে ১০০ শতাংশ কভারেজ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

শহরে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি লিটার পানীয় জলের প্রয়োজন হয়। সরাসরি জল সংযোগ না থাকা পরিবারগুলির একাংশ রাস্তার ধারের হাইড্র্যান্ট এবং ব্যক্তিগত টিউবওয়েলের উপর নির্ভরশীল বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

কংগ্রেস বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায় আগরতলার বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জলের ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিশোধিত জল না পাওয়ার বিষয়টি বিধানসভায় তুলে ধরেন। প্রস্তাবিত জল প্রকল্পগুলি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে আগরতলার পানীয় জলের প্রায় ২৫ শতাংশ হাওড়া নদী থেকে এবং ৭৫ শতাংশ ভূগর্ভস্থ জল থেকে সংগ্রহ করা হয়। তবে ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলনের মাত্রা বর্তমানে ৬১.৩ শতাংশ, যা কেন্দ্রীয় ভূগর্ভস্থ জল পর্ষদের নির্ধারিত ৭০ শতাংশ সীমার নিচে রয়েছে।

আগরতলা শহরে বর্তমানে ১৩টি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ৩৬টি মডিফায়েড আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট, ৬টি প্যাকেজ টাইপ আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট এবং ৭৭টি ডিপ টিউবওয়েল রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

জলের গুণমান নিয়েও বিধানসভায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন ডা. মানিক সাহা। তাঁর দাবি, জল শোধনাগারের ল্যাবরেটরিতে প্রতিদিন জলের গুণমান পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের মাধ্যমে ফিল্ড টেস্ট কিট ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি জল পরীক্ষা করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তায় আগরতলায় দুটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ১৭টি মডিফায়েড আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট এবং একাধিক ডিপ টিউবওয়েল তৈরির প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি হাওড়া নদীর উপর চেক ড্যাম, পিক-আপ উইয়ার ও মিনি ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভূগর্ভস্থ জলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে সারফেস ওয়াটারের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, জলের দূষণ ও গুণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন ভূগর্ভস্থ ও সারফেস ওয়াটারের ক্ষেত্রে কী ধরনের শোধন প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, তা জানতে চান। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিষয়টি সরকার নিয়মিত নজরদারিতে রেখেছে এবং আগরতলার পানীয় জলের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নতুন দুটি জল শোধনাগার চালু হলে আগরতলা শহরের পানীয় জলের সংকট অনেকটাই কমবে এবং আগামী দিনে ১০০ শতাংশ পরিবারকে জল পরিষেবার আওতায় আনার লক্ষ্য পূরণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা করছে রাজ্য সরকার।

You may also like

Leave a Comment