বিশেষ সংবাদদাতা, আগরতলা: ত্রিপুরা বিধানসভার অধিবেশনে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা দেয়। বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া মন্তব্য করে মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন, বিধানসভা ও রাজ্যে ‘বিদেশি এজেন্ট’ কিংবা ‘দেশদ্রোহীদের’ কোনও স্থান নেই।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রতন লাল নাথ প্রশ্ন তোলেন, এখানে কারা থাকবে—জাতীয়তাবাদীরা, নাকি দেশদ্রোহীরা? তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানি বা চীনা এজেন্ডা বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তির বিধানসভায় থাকার অধিকার নেই। একইসঙ্গে তিনি সিপিআইএম ও কংগ্রেসকে নিশানা করে তাদের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী অবস্থানের অভিযোগ তোলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সিপিআইএমকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংকটে বিরোধী দলগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
রতন লাল নাথের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধী বিধায়করা। বিরোধী দলনেতা সুদীপ রায় বর্মনসহ সিপিআইএম বিধায়করা স্পিকারের কাছে বক্তব্য রাখার সুযোগ দাবি করেন। এরপর শাসক ও বিরোধী সদস্যদের মধ্যে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক এবং স্লোগান-পাল্টা স্লোগান।
বিরোধী সদস্যদের পক্ষ থেকেও পাল্টা শাসক দলের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করা হয়। ‘ব্রিটিশদের দালাল’ ও ‘আমেরিকার দালাল’—এমন স্লোগানও শোনা যায় বলে জানা গেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারের ব্যর্থতা ও বিভিন্ন ইস্যু থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই এ ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে।
দুই পক্ষের তীব্র বাকযুদ্ধে বিধানসভা কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার সদস্যদের শান্ত থাকার এবং বিধানসভার শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। ঘটনাকে ঘিরে অধিবেশনজুড়ে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়।