আগরতলা: ত্রিপুরা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এবং শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘চন্দ্র মেমোরিয়াল প্রথম ডিভিশন ফুটবল লিগ ২০২৬’-কে ঘিরে রবিবার আগরতলা প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স হলে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে আসন্ন লিগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি ত্রিপুরায় ফুটবলের উন্নয়ন, স্থানীয় ফুটবলারদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়া এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লিগের মূল স্পনসর শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের কর্ণধার তথা ত্রিপুরা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি রূপক সাহা, সম্পাদক অমিত চৌধুরী, সহ-সম্পাদক তথা প্রথম ডিভিশন লিগ কমিটির চেয়ারম্যান তপন সাহা সহ টি.এফ.এ-র অন্যান্য কর্মকর্তারা।
এবারের প্রথম ডিভিশন লিগে মোট নয়টি দল অংশ নিচ্ছে। দলগুলি হল—টাউন ক্লাব, ফরোয়ার্ড ক্লাব, ব্লাডমাউথ ক্লাব, এগিয়ে চলো সংঘ, লাল বাহাদুর ব্যায়ামাগার, নাইট বুলেটস ক্লাব, রামকৃষ্ণ ক্লাব, জুয়েলস অ্যাসোসিয়েশন এবং কল্যাণ সমিতি। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতিটি দলের কোচ, ম্যানেজার ও অধিনায়করা নিজ নিজ ক্লাবের জার্সি পরে উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে রূপক সাহা বলেন, ত্রিপুরা ফুটবলের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন ত্রিপুরা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি গৌরচন্দ্র সাহা। তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে এবং ত্রিপুরা ফুটবলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ককে স্মরণ করে এই লিগের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স গর্বিত। তাঁর অবদান ও ফুটবলের প্রতি নিষ্ঠার ধারাকে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরা ফুটবলের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম চাবিকাঠি হল স্থানীয় প্রতিভাবান ফুটবলারদের বেশি করে সুযোগ দেওয়া। বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরাম, মণিপুর ও মেঘালয়সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে ফুটবলার এনে দল গঠন করার প্রবণতা রয়েছে। তবে স্থানীয় খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত সুযোগ না দিলে তাঁদের প্রতিভা বিকশিত হওয়া কঠিন। তাই ক্লাবগুলিকে স্থানীয় ফুটবলারদের খেলানোর ক্ষেত্রে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রেফারিং নিয়েও এদিন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উঠে আসে। স্থানীয় রেফারিদের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়, ত্রিপুরার রেফারিরাই নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে আরও দক্ষ হয়ে উঠবেন। একইসঙ্গে নিরপেক্ষ ও মানসম্মত রেফারিং নিশ্চিত করতে টি.এফ.এ-র পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
লিগে প্রতিটি ম্যাচকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকছে। প্রতিটি ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ, পাশাপাশি ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট, বেস্ট ইমার্জিং প্লেয়ার, বেস্ট রেফারি ও বেস্ট কোচের সম্মাননা দেওয়া হবে। ক্রীড়া সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও লিগকে ঘিরে বিভিন্ন স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা বলেন, এটি শুধু কয়েকটি ক্লাবের প্রতিযোগিতা নয়, গোটা ত্রিপুরার ফুটবলপ্রেমীদের উৎসব। সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে লিগের প্রচার আরও বাড়ানোর জন্য সাংবাদিকদের কাছে আবেদন জানানো হয়। বিশেষ করে তরুণ ও প্রতিভাবান স্থানীয় ফুটবলারদের ভালো পারফরম্যান্স তুলে ধরলে তাঁদের মধ্যে আরও উৎসাহ তৈরি হবে বলে মত প্রকাশ করা হয়।
বক্তাদের আশা, এবারের চন্দ্র মেমোরিয়াল প্রথম ডিভিশন লিগে প্রতিটি ম্যাচেই থাকবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উত্তেজনা। মাঠে দর্শকদের উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় ফুটবলের প্রতি মানুষের আগ্রহও নতুন করে তৈরি হবে। শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করবে ফুটবলের জয়েই—এমনই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।