আইনশৃঙ্খলা, কর্মসংস্থান, নারী নিরাপত্তা ও PRTC ইস্যুতে সরকারকে নিশানা বিরোধী দলনেতার
আগরতলা, নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামী ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হতে চলা ত্রিপুরা বিধানসভার তিন দিনের অধিবেশনে রাজ্যের সাধারণ মানুষের সমস্যা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় জোরালোভাবে তুলে ধরবে সিপিআই(এম)। সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার বিরুদ্ধে বিধানসভার ভিতরে সরব হওয়ার পাশাপাশি জনগণের দাবি ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরাই দলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জীতেন্দ্র চৌধুরী।
এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, শুধুমাত্র বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করা সিপিআই(এম)-এর উদ্দেশ্য নয়। রাজ্যের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন, তা বিধানসভার আলোচনায় তুলে ধরে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই তাঁদের লক্ষ্য।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাসে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তাঁর দাবি, নারী নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
কর্মসংস্থান ইস্যুতেও সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জীতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হচ্ছে না। পার্ট-টাইম, DRW, সর্বশিক্ষা অভিযান, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং উগ্রপন্থী মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী SPU কর্মীদের বিভিন্ন দাবি নিয়েও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন নিয়োগের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হলেও স্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
PRTC বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি জানান জীতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের স্থানীয় যুবকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিধানসভায় গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে বিধানসভার অধিবেশনের সময়সীমা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল। জীতেন্দ্র চৌধুরী জানান, বিরোধীদের পক্ষ থেকে চার থেকে পাঁচ দিনের অধিবেশনের দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সরকার পক্ষ তিন দিনের অধিবেশন নির্ধারণ করেছে। তাঁর মতে, এত অল্প সময়ের মধ্যে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা করা কঠিন।
তবে সীমিত সময়ের মধ্যেও শর্ট ডিউরেশন ডিসকাশন, প্রাইভেট মেম্বার রেজোলিউশন এবং তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের মাধ্যমে জনগণের সমস্যা বিধানসভায় তুলে ধরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
অধিবেশনে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি যথাযথভাবে আলোচনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিধানসভার স্পিকারের কাছেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান বিরোধী দলনেতা। আগামী অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে জোরালো রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।