Home আগরতলাআদিবাসী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে উদ্যোগী বিজেপি: অভিষেক দেবরায়

আদিবাসী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে উদ্যোগী বিজেপি: অভিষেক দেবরায়

by Debasish
0 comments 1 views

আগরতলা, ৭ নভেম্বর: দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে জনজাতি সম্প্রদায়ের বীর সন্তানদের অবদান ও আত্মত্যাগকে যথাযথ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিজেপি। আগামী ১৫ নভেম্বর ভগবান বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে জনজাতি গৌরব দিবস পালনের প্রস্তুতি হিসেবে শনিবার ভারতীয় জনতা জনজাতি মোর্চার উদ্যোগে একদিনের বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। আগরতলার ভগৎ সিং শুভ আবাসে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে জনজাতি ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেবরায়, সংগঠন সম্পাদক রবীন্দ্র রাজু, মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, মন্ত্রী রামপদ জমাতিয়া-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। দিল্লি থেকে আগত সমীর ওরাঁওও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এবং জনজাতি মোর্চার বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেবরায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে ভগবান বিরসা মুন্ডার জন্মদিনকে জনজাতি গৌরব দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে জনজাতি সমাজের অবদান জাতীয় স্তরে বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে।

তাঁর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিত্বের অবদানই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। অথচ অসংখ্য জনজাতি স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস যথাযথভাবে জনসমক্ষে আসেনি।

অভিষেক দেবরায়ের বক্তব্য, আজাদি কা অমৃত মহোৎসবের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বহু বিস্মৃত স্বাধীনতা সংগ্রামীর অবদান নতুন করে সামনে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই উদ্যোগ না নেওয়া হলে ভগবান বিরসা মুন্ডার মতো মহান সংগ্রামীদের ইতিহাস সম্পর্কে অনেকেই হয়তো জানতে পারতেন না।

তিনি আরও বলেন, বিরসা মুন্ডাকে সম্মান জানানো মানে শুধু একজন মহান ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করা নয়, বরং দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী সমগ্র জনজাতি সমাজের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকে স্বীকৃতি দেওয়া। দেশ এবং গণতন্ত্রের সুরক্ষায় জনজাতি সম্প্রদায়ের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কংগ্রেসের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দাবি করেন, জনজাতি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকারগুলি যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি। বিজেপি দেশের জন্য যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি দেশের প্রকৃত ইতিহাস সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

অভিষেক দেবরায় জানান, শনিবারের কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল জনজাতি গৌরব দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা এবং রাজ্যজুড়ে দিবসটি পালনের প্রস্তুতি আরও সুসংহত করা। আগামী ১৫ নভেম্বর ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্তে ভগবান বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তী উদযাপন করা হবে। এই উপলক্ষে বিশেষ মেলারও আয়োজন থাকছে।

জনজাতি সমাজের ইতিহাস, আত্মপরিচয় এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।

You may also like

Leave a Comment