Home ত্রিপুরাত্রিপুরায় নতুন FRRO অফিসের অনুমোদন কেন্দ্রের, দেশজুড়ে মোট সংখ্যা বেড়ে ২০

ত্রিপুরায় নতুন FRRO অফিসের অনুমোদন কেন্দ্রের, দেশজুড়ে মোট সংখ্যা বেড়ে ২০

by Debasish
0 comments 2 views

আগরতলায় চালু হবে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস, বিদেশি পর্যটক, চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য আসা ব্যক্তিদের পরিষেবা প্রদানে মিলবে সুবিধা।

আগরতলা, ৩ নভেম্বর : বিদেশি নাগরিকদের ভারতে যাতায়াত, বসবাস এবং অভিবাসন সংক্রান্ত পরিষেবা আরও সহজ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা-সহ নাগাল্যান্ডের কোহিমা এবং ওড়িশার ভুবনেশ্বরে নতুন তিনটি ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO) স্থাপনের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্র। গত ২ নভেম্বর প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর ফলে দেশে FRRO অফিসের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২০।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে দেশের প্রতিটি রাজ্যের রাজধানীতে অন্তত একটি করে FRRO অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন, চিকিৎসা এবং উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ভারতে আসা বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁদের পরিষেবা প্রদানের পাশাপাশি অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়মকানুন কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত।

উল্লেখ্য, আগরতলা ও কোহিমার FRRO অফিস আগে কলকাতার আঞ্চলিক অফিসের অধীনে পরিচালিত হতো। অন্যদিকে, ভুবনেশ্বরের দায়িত্ব ছিল হায়দরাবাদের FRRO অফিসের আওতায়। নতুন অফিসগুলির বিজ্ঞপ্তি জারির ফলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে বিদেশি নাগরিকদের পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দূরত্ব অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে ইতিমধ্যেই জয়পুর, চণ্ডীগড়, আইজল, অমরাবতী এবং গুয়াহাটিতে পাঁচটি নতুন FRRO অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো আগরতলা, কোহিমা ও ভুবনেশ্বর।

এদিকে, এখনও যেসব রাজ্যে পৃথক FRRO অফিস নেই, সেখানেও এই পরিষেবা সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে কেন্দ্র। সেই তালিকায় রয়েছে বিহার, গোয়া, হিমাচল প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর এবং মেঘালয়।

FRRO অফিসের প্রধান কাজ হলো ভারতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন এবং অন্যান্য অভিবাসন সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ও করে এই দপ্তর।

সরকারি বিবৃতিতে ২০২৫ সালের Immigration and Foreigners Act-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ, অবস্থান, চলাচল এবং দেশত্যাগ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী চারটি আইনকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদিত FRRO আধিকারিকরা ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনকে অভিবাসন সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করেন।

আগরতলায় নতুন FRRO অফিসের অনুমোদনকে ত্রিপুরার প্রশাসনিক পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটক, চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসা ব্যক্তি এবং শিক্ষার্থীদের ভিসা ও নিবন্ধন সংক্রান্ত কাজে এবার আরও স্থানীয় স্তরে পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নজরদারিও আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

You may also like

Leave a Comment