আগরতলা, ৩১ অক্টোবর: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় হিংসা, অশান্তি কিংবা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারের কোনও স্থান নেই। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ই গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ প্রতিফলন। শনিবার আগরতলায় বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা বন্ধ করো’ পদযাত্রায় অংশ নিয়ে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।
এদিনের সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে ভোটাধিকার, আইনি সুরক্ষা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রদান করেছে। ড. বি. আর. আম্বেদকরের প্রণীত সংবিধানের মূল্যবোধ ও আদর্শ রক্ষা করা প্রত্যেকের দায়িত্ব। কোনওভাবেই হিংসা বা অশান্তির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
বিরোধী দলগুলিকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজয়ের পর সিপিআইএম, কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলি সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতার কথা বলে এই প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মানিক সাহা বলেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোনও আপত্তি থাকলে তা সংবিধান ও আইনি পদ্ধতি মেনেই জানাতে হবে। প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ তুলে কিংবা হিংসাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলা যায় না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গেও বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকাকে নির্ভুল, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করে তুলতেই এই সংশোধন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে বহু ভোটারের মৃত্যু হয়েছে, আবার অনেকে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভোটার তালিকায় প্রকৃত যোগ্য ভোটারদের নাম থাকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কংগ্রেস, সিপিআইএম ও তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক স্বার্থে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে। ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই এই দলগুলি সংশোধন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে মানিক সাহা বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ভোটার তালিকা সংশোধনের অধিকার কমিশনের রয়েছে। তাহলে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির উদ্যোগে বিরোধীদের আপত্তি কোথায়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, গণতন্ত্রে শেষ কথা বলবে জনগণের ভোট। হিংসা, ভয়ভীতি কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কোনওভাবেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া চলবে না। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রক্ষায় বিজেপি কর্মীরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সভা, মিছিল এবং বাড়ি বাড়ি প্রচার কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।