আগরতলা, ৩০ অক্টোবর: রাজ্যের আর্থিকভাবে দুর্বল ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির মাথার উপর স্থায়ী ছাদের ব্যবস্থা করতে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। আগরতলার আখাউড়া সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় লাইটহাউস প্রকল্পের নবনির্মিত দুটি ব্লকের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ‘এ’ এবং ‘এফ’ ব্লকের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মোট ২৭৮টি ফ্ল্যাট উপভোক্তাদের জন্য প্রস্তুত হলো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত কয়েকজন উপভোক্তার হাতে প্রতীকীভাবে নতুন ফ্ল্যাটের চাবি তুলে দেন। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লাল।
উল্লেখ্য, আগরতলা লাইটহাউস প্রকল্পের আওতায় মোট সাতটি ব্লকে ১,০০০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন প্রায় ৩০ বর্গমিটার, অর্থাৎ ৩২০ বর্গফুট। ইতিমধ্যে দুটি ব্লকের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় ২৭৮টি পরিবার নিজেদের স্থায়ী আবাসন পাওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় সেই সমস্যাগুলি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাকি ব্লকগুলির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে উপভোক্তাদের হাতে ফ্ল্যাট তুলে দেওয়া হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে দেশে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে লাইটহাউস প্রকল্প চালু করা হয়। দেশের নির্বাচিত ছয়টি শহরের মধ্যে আগরতলাও রয়েছে। এই প্রকল্পে প্রচলিত নির্মাণ পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ‘লাইট গেজ স্টিল ফ্রেম’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তুলনামূলক দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে আবাসন নির্মাণ সম্ভব।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, একটি স্থায়ী বাড়ি শুধুমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং একটি পরিবারের নিরাপদ ভবিষ্যৎ ও উন্নত জীবনযাপনের অন্যতম ভিত্তি। পাশাপাশি নবনির্মিত আবাসনগুলির পরিচ্ছন্নতা, স্যানিটেশন এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক পরিষেবা বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। আবাসনের বাসিন্দাদের সম্মিলিতভাবে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্য সরকারের বক্তব্য, আর্থিকভাবে দুর্বল ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ এবং স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতে আগামী দিনেও এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।