৯ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে বর্তমান পুরবোর্ডগুলির মেয়াদ, রিটার্নিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন; নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল
আগরতলা, ২৯ অক্টোবর: ত্রিপুরার ২১টি নগর স্থানীয় সংস্থায় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে। আগরতলা পুরনিগম (এএমসি) সহ রাজ্যের ২১টি পুর সংস্থার নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে বলে জানিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞা ভবনে রিটার্নিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আগামী ৩০ অক্টোবর নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে শুক্রবারই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে কি না, সে বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পি কে চক্রবর্তী সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচন পরিচালনার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান নগর স্থানীয় সংস্থাগুলির মেয়াদ আগামী ৯ ডিসেম্বর শেষ হতে চলেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, রাজ্যের ২১টি নগর স্থানীয় সংস্থায় একই সঙ্গে নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে যাতে কোনও ধরনের সমস্যা না হয়, সেই লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার রিটার্নিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কমিশনের সচিবের তত্ত্বাবধানে এর আগে আরও একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিটি ছিল প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময়ের শেষ পর্ব।
এই প্রশিক্ষণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এর ব্যবহার ও পরিচালনা, নির্বাচনী নির্দেশিকা, প্রাসঙ্গিক বিধিনিয়ম এবং নির্বাচন পরিচালনার আইনি কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ আধিকারিকদেরও পুনরায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভোটগ্রহণের সময় ভুলত্রুটি এড়ানো যায় এবং গোটা প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
এদিকে, প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও নির্বাচনী তৎপরতা বাড়ছে। সূত্রের খবর, শাসকদল বিজেপি প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির মধ্যে সম্ভাব্য আসন সমঝোতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও সংশোধন, ভোটকেন্দ্রের ব্যবস্থা, ইভিএম পরীক্ষা এবং নির্বাচনী কর্মীদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।