আগরতলা, ৮ অক্টোবর: বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশজুড়ে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। একইসঙ্গে শোক প্রকাশ করেছেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, মন্ত্রী রতন লাল নাথ এবং মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
নানা পাটেকরের প্রয়াণকে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শক্তিশালী অভিনয়, স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব এবং চরিত্রকে নিজের অভিনয়শৈলীতে জীবন্ত করে তোলার অসাধারণ দক্ষতার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া শোকবার্তায় মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা নানা পাটেকরের অভিনয় প্রতিভার কথা স্মরণ করে বলেন, ভারতীয় সিনেমায় তাঁর অবদান এবং সৃষ্ট স্মরণীয় চরিত্রগুলি দীর্ঘদিন দর্শকদের মনে বেঁচে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে শোকসন্তপ্ত পরিবার, অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সমবেদনাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, নানা পাটেকরের অভিনয়জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। তাঁর কথায়, ‘অঙ্কুশ’, ‘প্রহার’, ‘ক্রান্তিবীর’-সহ একাধিক ছবিতে নানা পাটেকরের অভিনয় দর্শকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর, তীব্র অভিনয়শৈলী এবং চরিত্রের গভীরতা ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতার জন্য তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজস্ব একটি জায়গা তৈরি করেছিলেন।
বিপ্লব কুমার দেব আরও উল্লেখ করেন, নানা পাটেকরের কাজ শুধু তাঁর সময়ের দর্শকদের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অভিনেতা ও শিল্পীদের কাছেও তাঁর অভিনয় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
শোকবার্তা জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী রতন লাল নাথ এবং মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীও। তাঁরাও বর্ষীয়ান অভিনেতার মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাসভবনে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়ায় আক্রান্ত হন নানা পাটেকর। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে দ্রুত মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রায় ৪৫ মিনিটের প্রচেষ্টার পরও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকাল প্রায় ৫টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে গভীর শোক। অভিনয়ের জগতে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন, শক্তিশালী চরিত্রায়ন এবং স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীর জন্য নানা পাটেকর ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।